বিশ্বকাপ আর ব্রাজিল, দুটি শব্দ যেন একে অপরের সমার্থক। পাঁচবারের বিশ্বকাপ জেতা দল হওয়া এবং সব বিশ্বকাপে খেলার দম্ভ একত্রিত করলে এটি স্পষ্ট হয়ে যায়। তবে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল শেষবার শিরোপা জেতার পর ২৪ বছর পার করে ফেলেছে। ২০০২ সালে জাপানের ইয়োকোহামায় পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ ঘরে তুলেছিল সেলেসাওরা। এরপর গত পাঁচ আসরের চারটিতেই তারা কোয়ার্টার ফাইনালের বাইরে গেছে।
এবার দলের নেতৃত্বে আছেন ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। নিউ জার্সির প্রশিক্ষণ শিবিরে তিনি বলেছেন, ‘ব্রাজিলের ধরন তো খেলোয়াড়দের রক্তে আছেই। এদিকে ইতালির স্টাইল হলো কঠোর পরিশ্রম। আমি দুটো জিনিস একসাথে মেলাতে চাই।’ অর্থাৎ ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সাথে ইতালির শৃঙ্খলা যোগ করে নতুন রূপ দিতে চান কোচ।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল এখন ষষ্ঠ বিশ্বকাপের খোঁজে। তাদের গ্রুপ ‘সি’-তে আছে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। অপ্টা সুপারকম্পিউটারের হিসাবে ব্রাজিলের গ্রুপ থেকে বের হওয়ার সম্ভাবনা ৯৬.৯ শতাংশ। কেবল স্পেন (৯৮.৬%) তাদের চেয়ে বেশি সম্ভাবনা নিয়ে আছে। ১৯৮২ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপে ব্রাজিল গ্রুপ শীর্ষে থেকেই পরের পর্বে গেছে।
গ্রুপ পার হলে ব্রাজিলের পরের বাধা হতে পারে জাপান। সম্প্রতি ২০২৫ সালের অক্টোবরে জাপান ৩-২ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল। তবে ইতিহাস বলছে, ব্রাজিল জাপানের বিপক্ষে ১৪ ম্যাচে ১১টিতেই জিতেছে। এই পর্ব পার হওয়ার সম্ভাবনা ৬২.১ শতাংশ।
শেষ ১৬-তে হতে পারে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর এটি প্রথম বিশ্বকাপে নরওয়ে। ব্রাজিলের শেষ ১৬-এর রেকর্ড চমৎকার; ১০টি ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই জিতেছে এবং শেষ আটটি ম্যাচ টানা জিতেছে। এবারও শেষ ষোল পার হওয়ার সম্ভাবনা ৩৮ শতাংশ।
কোয়ার্টার ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। অপ্টার হিসাবে ইংল্যান্ডের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা ১১.৪ শতাংশ, যা স্পেন (১৬.৫%) ও ফ্রান্স (১২.৮%) পরেই। তবে ব্রাজিল ঐতিহাসিকভাবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এগিয়ে; শেষ ১২ ম্যাচে মাত্র একটিতে হেরেছে (জয় ৫, ড্র ৬)। সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ২২ শতাংশ।
সেমিফাইনালে ফ্রান্সের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা ৩৩.৫ শতাংশ। ইতিহাস মিশ্র—১৯৫৮ সালে ব্রাজিল ৫-২ জিতেছিল, কিন্তু ১৯৯৮ ও ২০০৬ কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলকে ফ্রান্স ছিটকে দেয়। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হারের পর থেকে সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি ব্রাজিল।
ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ স্পেন। অপ্টার মতে শিরোপার বড় দাবিদার স্পেন ১৬.৫%, ব্রাজিল ৬.৭%। তবে ইতিহাস বলছে, ব্রাজিল স্পেনের বিপক্ষে শক্তিশালী; ১০ ম্যাচে মাত্র দুটিতে হেরেছে (জয় ৫, ড্র ৩)।
তবুও কোচ আনচেলত্তি আশাবাদী, ‘ব্রাজিলে অসাধারণ খেলোয়াড় আছে এবং আমরা একটি দারুণ বিশ্বকাপ খেলতে পারি।’ ২৪ বছরের অপেক্ষা শেষ করে হেক্সা মিশন কি ‘কমপ্লিট’ করতে পারবে ব্রাজিল? তার উত্তর মিলবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মাঠে, অথবা তার আগেই।