নানা জটিলতা শেষে অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপের পথে যাত্রা শুরু করেছে ইরান। মেহদি তারেমিরা তুরস্ক থেকে মেক্সিকোতে নিজেদের অনুশীলন ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। যাত্রার আগে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রেখে কুরআন শরীফে চুমু খেয়ে, তার নিচ দিয়ে হেঁটে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে ইরান দল।
মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত বিদায়ী অনুষ্ঠানে দেখা যায়, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা পবিত্র কুরআন চুম্বন করছেন এবং কুরআনের নিচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও এখন ব্যাপক আলোচনায়।
ইরানি সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সফর বা অভিযানের আগে কুরআন চুম্বন ও তার নিচ দিয়ে অতিক্রম করাকে আল্লাহর সুরক্ষা, দিকনির্দেশনা ও সফলতার আশীর্বাদ কামনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এটি শুধু ধর্মীয় আচারের অংশ নয়, বরং জাতীয় ঐক্য, বিশ্বাস ও গর্বেরও বহিঃপ্রকাশ।
চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই ইরান খেলবে মার্কিন মুল্লুকে। তবে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দলটির অনুশীলন ক্যাম্প হবে মেক্সিকোয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেলেও ফেডারেশনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রশাসনিক সদস্য ও কারিগরি উপদেষ্টাসহ প্রতিনিধিদলের কিছু সদস্য এখনও ভিসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ভিসা জটিলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। তুরস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস অভিযোগ করেছে, জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মীদের ভিসা না দেওয়া বৈষম্যমূলক আচরণের শামিল। একই অভিযোগ করেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশনও। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ভিসা না দেওয়া ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং ক্রীড়াসুলভ সিদ্ধান্ত নয়’।
মাঠের বাইরের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছে ইরান। প্রস্তুতি ম্যাচে গাম্বিয়া ও মালিকে হারিয়ে ইতিবাচক ফল পেয়েছে তারা। এখন দেখার অপেক্ষা, মাঠের বাইরের চাপ সামলে বিশ্বকাপের মঞ্চে কেমন পারফর্ম করে ইরান।