মালদ্বীপের বিপক্ষে বাঁচামরার ম্যাচে ফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় রইল মাঠের বিশৃঙ্খলা, রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আর শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা। মালদ্বীপ ফুটবলের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডায়মন্ড জুবিলি ফুটবল টুর্নামেন্টে’ স্বাগতিকদের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগমুহূর্তে পরিস্থিতি রীতিমতো রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। যোগ করা সময়ে বল দখলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের পিয়াস আহমেদের সঙ্গে সংঘর্ষে মাটিতে পড়ে যান মালদ্বীপের হাসান ইনাজ। রেফারি সেকারান সেন্থিলনাথন সঙ্গে সঙ্গে মালদ্বীপের পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা।
সাইড বেঞ্চ থেকে উঠে এসে প্রতিবাদ করায় প্রথমে লাল কার্ড দেখেন মিরাজুল ইসলাম। এরপর মাঠের ভেতরে রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে লাল কার্ড পান ফরোয়ার্ড আল-আমিন। কার্ড দেখার পর মেজাজ হারিয়ে তিনি রেফারিকে ধাক্কাও দেন।
কিছুক্ষণ পর আবারও উত্তেজনা ছড়ায় মাঠে। বাংলাদেশ অর্ধে বল দখলের লড়াইয়ে মালদ্বীপের ইব্রাহিম নাসির ও বাংলাদেশের মনজুরুর রহমান বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড়েরা সেখানে জড়ো হয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হন। শুরু হয় হাতাহাতি ও মারামারি। মাঠের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতেও।
শেষ পর্যন্ত দুই দলের কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ম্যাচের বাকি সময় শেষ হলে ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
এর আগে মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে জয়ের সমীকরণ মাথায় নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। ম্যাচের ১৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে যায় মালদ্বীপ। প্রথমার্ধে বাংলাদেশও একটি পেনাল্টির জোরালো দাবি তুলেছিল, তবে রেফারি সাড়া দেননি।
দ্বিতীয়ার্ধে মালদ্বীপের এক ডিফেন্ডারের হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে দলকে সমতায় ফেরান মিরাজুল। এরপর জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি মারুফুল হকের দল।
দিনের অন্য ম্যাচে পাকিস্তান ২-০ গোলে আফগানিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। বাংলাদেশ জিতলে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে যেতে পারত। কিন্তু ড্র করায় ৪ পয়েন্ট নিয়ে আফগানিস্তানই ফাইনালে খেলার সুযোগ পায়।
টুর্নামেন্টের বাকি তিন দল সিনিয়র জাতীয় দল নিয়ে খেললেও বাংলাদেশ খেলেছে অলিম্পিক দল, অর্থাৎ অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে। তিন ম্যাচের তিনটিতেই ড্র করে শেষ পর্যন্ত ফাইনালের আগেই থামতে হলো বাংলাদেশকে।