বিশ্বকাপের শুরুতেই দুই মহাতারকার গল্প যেন দুই মেরুর। একদিকে লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন, অন্যদিকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে লড়তে হচ্ছে দীর্ঘদিনের গোল খরার সঙ্গে।
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের ১-১ গোলের ড্রয়ে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি রোনালদো। পুরো ম্যাচ খেললেও নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচজুড়ে গোলের সুযোগ খুঁজেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জালের দেখা পাননি।
ফলে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তার গোল খরার আলোচনাও নতুন করে সামনে এসেছে। সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ঘানার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন রোনালদো। এরপর সেই আসরে উরুগুয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও মরক্কোর বিপক্ষে গোল করতে ব্যর্থ হন।
এরপর ২০২৪ ইউরোতেও গোলশূন্য ছিলেন পর্তুগাল অধিনায়ক। চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক, জর্জিয়া, স্লোভেনিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলেও জালের দেখা পাননি তিনি। সবশেষ চলমান বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষেও গোল করতে না পারায় বড় টুর্নামেন্টে তার গোলহীন ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে টানা ১০টিতে।
যে রোনালদো বছরের পর বছর গোলের পর গোল করে রেকর্ড বই ভরিয়েছেন, তার জন্য এমন পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর। বিশেষ করে একই সময়ে মেসি যখন হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড স্পর্শ করছেন, তখন তুলনাটা আরও বেশি চোখে পড়ছে।
দীর্ঘ গোল খরা এখন রোনালদোর বর্তমান ভূমিকা ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। বয়সের প্রভাব, কৌশলগত পরিবর্তন এবং দলে তার অবস্থান। সবকিছু মিলিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার সেরা সময় কি তবে পেছনেই পড়ে গেছে?
তবে রোনালদোর ক্যারিয়ার বলছে, তাকে কখনোই সহজে হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। তাই সমালোচনার মাঝেও পর্তুগাল সমর্থকদের বিশ্বাস, গোল খরা ভেঙে আবারও জবাব দিতে পারেন তাদের অধিনায়ক।