বিশ্বকাপে বাঁচা-মরার ম্যাচে যখন আরেকটি হতাশার শঙ্কা ঘিরে ধরেছিল আলজেরিয়াকে, তখনই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখল আফ্রিকার দেশটি। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে জর্ডানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আলজেরিয়া। আর এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল তারা।
প্রথম ম্যাচে হারের পর দুই দলের সামনেই ছিল সমান চাপ। পরাজয় মানেই নকআউটের স্বপ্ন প্রায় শেষ। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে জর্ডান। আক্রমণাত্মক খেলায় তারা আলজেরিয়ার রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে।
৩৬ মিনিটে সেই চেষ্টার ফলও পেয়ে যায় জর্ডান। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে জোরালো শটে গোল করেন নিজার আল রুশদান। শুধু গোলই নয়, এই গোলের মাধ্যমে ইতিহাসও গড়েন তিনি। কারণ বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচে লিড নেয় জর্ডান। সেই আনন্দ নিয়েই বিরতিতে যায় দলটি।
তবে স্কোরলাইনে পিছিয়ে থাকলেও লড়াই থেকে ছিটকে যায়নি আলজেরিয়া। প্রথমার্ধেই সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিলেন রিয়াদ মাহরেজ। কিন্তু একা গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়েও সফল হতে পারেননি তিনি। জর্ডানের গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা দুর্দান্ত দক্ষতায় সেই চেষ্টা রুখে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র বদলাতে শুরু করে। বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নাদির বেনবুয়ালি, আর তার উপস্থিতিই যেন নতুন প্রাণ এনে দেয় আলজেরিয়ার আক্রমণে। ৬৯ মিনিটে মাহরেজের কর্নার থেকে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে গোল করে সমতা ফেরান তিনি। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল তার দ্বিতীয় গোল, আর আলজেরিয়ার জার্সিতে মাত্র পঞ্চম ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন এই ফরোয়ার্ড।
সমতায় ফেরার পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় আলজেরিয়ার। ম্যাচের ৮২ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। আমিন গোরির গোলে এগিয়ে যায় তারা। এরপর বাকি সময় লিড ধরে রেখে ২-১ গোলের মূল্যবান জয় নিশ্চিত করে আলজেরিয়া।
এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, ফিরিয়ে দিয়েছে স্বপ্নও। ১২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়ের হাসি দেখল আলজেরিয়া। এখন শেষ ম্যাচে জয় পেলেই শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করবে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।