বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠেছে কেপ ভার্দে। তবে মাঠের এই সাফল্যের মাঝেই বড় বিতর্কে জড়িয়েছেন দলটির অধিনায়ক রায়ান মেন্দেস। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে তদন্ত শুরু করেছে নিউজিল্যান্ড পুলিশ।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো স্পোর্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে ফিফা সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিল কেপ ভার্দে। সে সময় নিউজিল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন স্থানীয় এক ব্রাজিলিয়ান নারীকে কেপ ভার্দে দলের দোভাষী হিসেবে নিয়োগ দেয়।
অভিযোগকারী নারীর দাবি, ২৭ মার্চ অকল্যান্ডে কেপ ভার্দের টিম হোটেলে একটি কাজের বৈঠকের কথা বলে তাকে সামাজিক আড্ডায় নেওয়া হয়। পরে তিনি নিজের কক্ষে ফিরে গেলে রায়ান মেন্দেস সেখানে প্রবেশ করে তাকে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন। ফরেনসিক ও মেডিকেল রিপোর্টে তার শরীরে আঘাতের স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী চিকিৎসা ও ফরেনসিক প্রমাণসহ ফিফা এবং কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন। নিউজিল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, গত এপ্রিল থেকেই বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে এখন পর্যন্ত মেন্ডেসের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা চার্জশিট গঠন করা হয়নি।
গত ১০ মে ভুক্তভোগী ও তার স্বামী ফিফা এবং কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কাছে মেন্ডেসকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠান। ফিফা জানিয়েছে, তারা নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
অন্যদিকে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশন কিংবা রায়ান মেন্দেস এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। তবে গ্লোবো স্পোর্তে প্রকাশিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনে দেখা যায়, কেপ ভার্দে দলের এক কর্মকর্তা অভিযোগকারীকে জানিয়েছেন, বিষয়টি রায়ান মেন্দেসের ‘ব্যক্তিগত সমস্যা’। তাই এ বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই।
এদিকে নিউজিল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা বুঝতে পারছি যে এই ব্যাপারটায় নিউজিল্যান্ড পুলিশ সংশ্লিষ্ট। তাই এই পরিস্থিতি নিয়ে আরও বেশি সঠিক মন্তব্য তারাই করতে পারবে।’ ফিফাও চলমান তদন্তের কারণে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।