বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ড-নরওয়ে শুধু মুখোমুখির লড়াই নয়, বরং সময়ের দুই সেরা স্ট্রাইকারের লড়াইও বটে। একদিকে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আর্লিং হলান্ড, অন্যদিকে গোলের ধারাবাহিকতায় অনন্য হ্যারি কেইন। মায়ামির মহারণে এই দুই গোলমেশিনের লড়াই নিয়েই এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় উন্মাদনা।
ইংল্যান্ডের ঘরের শত্রু বিভীষণ বললেও ভুল হবে না আর্লিং হলান্ডকে। জন্ম ইংল্যান্ডে, ক্লাব ফুটবলে খেলেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। অথচ আজ সেই ইংল্যান্ডকেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন নরওয়ের এই তারকা ফরোয়ার্ড।
চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ৭ গোল করেছেন হলান্ড। অন্যদিকে ৬ গোল নিয়ে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ফলে ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন এই দুই স্ট্রাইকারের যে কেউ। তবে ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড মর্গান রজার্স বিশ্বাস করেন, শেষ পর্যন্ত হলান্ডকে ছাপিয়ে যাবেন কেইন।
হলান্ডকে নিয়ে রজার্স বলেন, ‘কেউ কী কখনও আর্লিং হালান্ডকে থামাতে পেরেছে? আমি নিশ্চিত নই। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তিনি অবিশ্বাস্য রকমের ভালো খেলেন। মাঠে তিনি যা করেন, তা এতটা দুর্দান্ত যে আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন।’
ব্রাজিলের বিপক্ষে দুই গোল করা হলান্ডের বর্তমান ফর্মই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। নরওয়ের হয়ে টানা ১৪ ম্যাচে গোল করেছেন তিনি। এই ১৪ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ২৭টি। ইংল্যান্ডের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয়, চোটের কারণে সেন্টারব্যাক মার্ক গেহি খেলতে পারবেন না। এছাড়া রাইটব্যাক রিসে জেমসের খেলাও অনিশ্চিত।
চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ৮টি করে গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাদের ঠিক পেছনেই অবস্থান করছেন হালান্ড ও কেইন। তবে রজার্সের বিশ্বাস, গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও এগিয়ে যাবেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
তিনি বলেন, ‘তারা দুজনই এবারের বিশ্বকাপে সেরা ছন্দে আছেন। দুজনেই বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তাদের এ লড়াইটা দর্শকদের জন্য দারুণ উপভোগের বিষয়।’
দুই তারকার উত্থানের গল্পও ভিন্ন। ছোটবেলা থেকেই বিস্ময়বালক হিসেবে পরিচিত ছিলেন হলান্ড। অন্যদিকে স্পার্সে দীর্ঘদিন গোল করেও শিরোপাহীন ছিলেন কেইন। ২০২৩ সালে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর বদলে যায় তার ক্যারিয়ার। এরপর টানা দুই মৌসুম বুন্দেসলিগা জয়ের পাশাপাশি জিতেছেন ইউরোপিয়ান ‘গোল্ডেন বুট’। অন্যদিকে ম্যাচের আগে কোনো বাড়তি চাপ নিতে নারাজ হলান্ড। তার মতে, ফেভারিট হিসেবে চাপটা পুরোপুরি ইংল্যান্ডের ওপরই।
নরওয়ের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে হলান্ড বলেন, ‘সত্যি বলছি, এখনও আমাদের সম্ভাবনা ক্ষীণ। আমার মনে হয়, কয়েকটি দেশ আছে যারা পরিষ্কার ফেভারিট, তাদের মধ্যে ইংল্যান্ড অন্যতম। আমার মনে হয়, আপনাদের (সাংবাদিক) উচিত ইংলিশ ভদ্র মহোদয়গণের ওপর চাপ দেওয়া।’
তবে ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই স্ট্রাইকার স্বীকার করেছেন, আজকের ম্যাচটি তার জন্য বিশেষ এক উপলক্ষ।