বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে একের পর এক নাটকীয় মুহূর্তের জন্ম দিল আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচ। সমতায় ফেরার পর লাল কার্ডে ১০ জনের দলে পরিণত হয়েও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে গোল করতে দেয়নি সুইজারল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চ পেরিয়ে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের দেখা পায় আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচে সমতায় ফেরার আগে একাধিকবার আর্জেন্টিনার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে সুইজারল্যান্ড। বাঁ দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে দান এনদোয়ে দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে হেড করলেও দারুণ ক্ষিপ্রতায় ডান দিকে ঝাঁপিয়ে বল আটকে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
এরপর বক্সের বাইরে প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে সুইস মিডফিল্ডারের জোরালো শটও দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। সামনে এসে অদ্ভুতভাবে ড্রপ খাওয়া বলও নিয়ন্ত্রণে আনেন তিনি।
অবশেষে ৬৭ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। বাঁ দিকে রদ্রিগেজের সঙ্গে চমৎকার এক ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢোকেন দান এনদোয়ে। ফিরতি পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন তিনি। কোণাকুনি শটে বল জড়িয়ে যায় দূরের পোস্টে। তাতেই সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড।
তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র পাঁচ মিনিট পর ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। ৭২ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রিল এম্বোলো। ৬৯ মিনিটে রেফারি প্রথমে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখালেও ভিএআরে দেখা যায়, দুজনের মধ্যে কোনো সংস্পর্শই হয়নি। ফাউলের অভিনয় করার কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এম্বোলো এবং লাল কার্ড নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
একজন বেশি নিয়ে খেলতে থাকায় জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ৯০ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের ক্রস থেকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে বল পেয়ে ডান দিকে কাট করে দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন লিওনেল মেসি। তবে বল অল্পের জন্য পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। শেষ মুহূর্তে মেসির কর্নার থেকেও সুযোগ তৈরি হলেও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের অ্যাক্রোবেটিক শট সহজেই আটকে দেন গ্রেগর কোবেল।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ছিল ১-১। প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়া আর্জেন্টিনার লিড দ্বিতীয়ার্ধে শোধ করে সুইজারল্যান্ড। ১০ জন নিয়ে শেষ ১৮ মিনিট লড়েও প্রতিপক্ষকে আর গোল করতে দেয়নি তারা। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।
অতিরিক্ত সময়ের ৯৩ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের সঙ্গে ওয়ান-টু পাসে বক্সে বল পান থিয়াগো আলমাদা। তবে তার শট দারুণভাবে রুখে দেন কোবেল। দুই মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া আলমাদার আরেকটি শক্তিশালী শট কোবেলকে পরাস্ত করলেও বল লাগে সাইডনেটে।
ম্যাচের উত্তেজনা বাড়তে থাকলে দুই মিনিটের ব্যবধানে হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার দুই খেলোয়াড়। ফ্রুলারকে টেনে ধরায় বুকড হন আলমাদা। এরপর আকাঞ্জিকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন লাউতারো মার্টিনেজ।
সব শঙ্কা উড়িয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের গোল আদায় করে নেয় আর্জেন্টিনা। কঠিন লড়াইয়ের পর সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মেসিদের দল।