বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম দেখা গেল এক বিরল দৃশ্য। ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলই জায়গা করে নিয়েছে সেমিফাইনালে। সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে শেষ চার নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। আর তাতেই তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস।
সেমিফাইনালে সবার আগে জায়গা করে নেয় ফ্রান্স। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা ২-০ গোলে হারায় মরক্কোকে। বিশ্বকাপ শুরু করার সময় ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তিন নম্বরে ছিল ফরাসিরা। এরপর স্পেন ২-১ গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে। র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর দল হিসেবেই টুর্নামেন্টে নেমেছিল তারা।
অন্য কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ শুরুর আগে তাদের অবস্থান ছিল ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের চার নম্বরে। সবশেষে শীর্ষ র্যাঙ্কিংধারী আর্জেন্টিনা সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের শেষ টিকিট নিশ্চিত করে। ফলে বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান সেরা চার দলই জায়গা করে নেয় শেষ চারে।
২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার নতুন ড্র পদ্ধতিও এই চিত্র তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। পরিবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকে ড্রয়ের আলাদা আলাদা কোয়াড্রেন্টে রাখা হয়েছিল, যাতে সেমিফাইনালের আগে তারা একে অপরের মুখোমুখি না হয়। অবশ্য সেই সুবিধা কাজে লাগাতে হলে নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছিল শর্ত, আর চার দলই তা করতে সক্ষম হয়েছে।
ড্রয়ের এই বিন্যাসের কারণে ফাইনালের আগে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিল না। একইভাবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সকে রাখা হয়েছিল নকআউটের বিপরীত পাশে, যাতে তারা এগিয়ে গেলে সেমিফাইনালে স্পেন অথবা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারে। এখন সেমিফাইনালে মঙ্গলবার মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন। আর বুধবার মাঠে নামবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা।
উল্লেখ্য, ফিফা র্যাঙ্কিং চালু হয় ১৯৯৪ সালে। তবে ওই বছরের বিশ্বকাপে এটি ব্যবহার করা হয়নি। এরপরও বহুবার শীর্ষ র্যাঙ্কিংধারী দলগুলো প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ২০০২ সালে ফ্রান্স, ২০১০ সালে ইতালি, ২০১৪ সালে স্পেন, ২০১৮ সালে জার্মানি এবং ২০২২ সালে বেলজিয়াম শীর্ষ চারে থেকেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এছাড়া ১৯৯৮ সালের পর কোনো বিশ্বকাপেই ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল একসঙ্গে সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। ২০২৬ বিশ্বকাপ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে লিখল নতুন ইতিহাস।