আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের মাধ্যমে পর্দা নামছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জমজমাট আসরের। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে দেখা যাবে টুর্নামেন্টের সেরা আক্রমণভাগের সঙ্গে সেরা রক্ষণভাগের লড়াই। এবারের টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা সর্বোচ্চ ১৯টি গোল করেছে, অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্পেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৬০ বছর পর প্রথমবারের মতো ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। একই সঙ্গে এটি হতে যাচ্ছে দুই প্রজন্মের দুই তারকার লড়াই, স্পেনের ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামালের বিপরীতে আর্জেন্টিনার ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যৎবাণী
অপ্টার সুপারকম্পিউটারের হিসাবে, বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় এগিয়ে স্পেন। তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৫৯.৪৬ শতাংশ, আর ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা ৪০.৫৪ শতাংশ।
যেখানে হবে ফাইনাল
ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, যা বিশ্বকাপ চলাকালে ‘নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়াম’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। ২০১০ সালে নির্মিত এই স্টেডিয়ামে প্রায় ৮২ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতা রয়েছে। এখানেই ২০২৫ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের দুই সেমিফাইনাল ও ফাইনালও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান
দুই দল এখন পর্যন্ত ১৬ বার মুখোমুখি হয়েছে।
ম্যাচ: ১৬
স্পেনের জয়: ৬
আর্জেন্টিনার জয়: ৬
ড্র: ২
সর্বশেষ পাঁচ দেখায়
২০১৮: স্পেন ৬-১ আর্জেন্টিনা
২০১০: আর্জেন্টিনা ৪-১ স্পেন
২০০৯: স্পেন ২-১ আর্জেন্টিনা
২০০৬: স্পেন ২-১ আর্জেন্টিনা
১৯৯৯: স্পেন ০-২ আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপে আগের দেখা
বিশ্বকাপে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ২-১ গোলে স্পেনকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই আসরে স্পেন গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়, আর আর্জেন্টিনার যাত্রা শেষ হয় কোয়ার্টার ফাইনালে।
শিরোপার হিসাব
স্পেন একবার (২০১০) বিশ্বকাপ জিতেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা তিনবার (১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২) বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে। মহাদেশীয় ফুটবলে স্পেন রেকর্ড চারবারের ইউরো চ্যাম্পিয়ন (১৯৬৪, ২০০৮, ২০১২ ও ২০২৪)। আর আর্জেন্টিনা রেকর্ড ১৬ বার কোপা আমেরিকা জিতেছে, সর্বশেষ ২০২৪ সালে।
স্পেনের ভরসা
স্পেনের হয়ে এই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ পাঁচ গোল করেছেন মিকেল ওয়ারজাবাল। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও গোল করেছেন তিনি। মধ্যমাঠে অধিনায়ক রদ্রি সবচেয়ে বেশি ৬৪৮টি সফল পাস দিয়ে দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে খেলা লামিন ইয়ামাল এখনো নিজের সেরাটা দেখাতে না পারলেও ডান প্রান্তে প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি।
আর্জেন্টিনার মূল শক্তি
আর্জেন্টিনার প্রধান ভরসা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তিনি এখন পর্যন্ত করেছেন আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট। গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়েও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের রয়েছেন তিনি, ফাইনালে সুযোগ থাকবে তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ারও।
শেষ ষোলো পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছেন মেসি। কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে তার অ্যাসিস্টও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়া লউতারো মার্তিনেজ তিনটি এবং এনজো ফার্নান্দেজ দুটি গোল করে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করেছেন।
যা বললেন সংশ্লিষ্টরা
স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, স্পেন ও আর্জেন্টিনা, দুই দলই এমন পরিকল্পনা নিয়ে খেলবে যেখানে প্রতিভা ও সুন্দর ফুটবলই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে।’
স্পেন অধিনায়ক রদ্রি বলেন, ‘এই দল ও এই প্রজন্ম নিজেদের পরিচয় তৈরি করেছে। এখন আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে। তবে আমরা এখানেই থামতে চাই না, আমাদের লক্ষ্য আরও বড়।’
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘মেসি ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। ৩৯ বছর বয়সে যেভাবে তিনি দলকে আবারও ফাইনালে তুলেছেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বলেন, ‘কখনো কখনো আমরা যা অর্জন করেছি তা ভেবে একাই কাঁদি। এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে চাই। সতীর্থদেরও বলেছি, হাসিমুখে প্রস্তুতি নিতে। এই স্মৃতি আমাদের সারাজীবন মনে থাকবে।’