বিশ্বকাপ ফাইনালের আলো স্বাভাবিকভাবেই থাকবে লিওনেল মেসি, লামিন ইয়ামাল কিংবা হুলিয়ান আলভারেজের ওপর। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে অনেক সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় এমন একজনের হাতে, যিনি গোল করেন না, তবু পুরো দলকে চালান। এবার সেই ভূমিকায় স্পেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র মাঝমাঠের ভরসা রদ্রি।
অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, স্পেনের সাফল্যের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি রদ্রি। আর সে কারণেই আর্জেন্টিনার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনা হতে পারে এই মিডফিল্ডারকে যতটা সম্ভব নিষ্ক্রিয় করে রাখা।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলে রদ্রিই মাঝমাঠের মূল ভরসা। রক্ষণ থেকে আক্রমণে বল পৌঁছে দেওয়া, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং বলের দখল ধরে রাখার দায়িত্ব তার কাঁধেই থাকে। স্পেনের ছোট ছোট পাসনির্ভর ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দুও তিনি।
রদ্রি যত বেশি সময় বলের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন, স্পেন তত সহজে নিজেদের ছন্দে খেলতে পারবে। প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা এবং পুরো ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই কারণেই ফাইনালে আর্জেন্টিনার অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে রদ্রির প্রভাব কমিয়ে দেওয়া। বিশ্লেষকদের ধারণা, মাঝমাঠে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজকে তার ওপর বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
স্পেনের মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিতে পারলে তাদের আক্রমণও অনেকটাই কার্যকারিতা হারাবে। তাই ম্যাচ পরিকল্পনার বড় অংশজুড়েই থাকতে পারে রদ্রিকে ঘিরে আর্জেন্টিনার কৌশল।
ফাইনালে আলো থাকবে মেসি ও ইয়ামালের ওপর। তবে মাঠের ভেতরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হতে পারে রদ্রি এবং আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডের মধ্যে।
স্পেন যদি বলের দখল ধরে রাখতে পারে, তাহলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও অনেকটা তাদের হাতেই থাকবে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা যদি রদ্রিকে চাপে রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে মেসি ও তার সতীর্থদের জন্য আক্রমণ গড়ে তোলা তুলনামূলক সহজ হবে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে গোলদাতাদের পাশাপাশি তাই নজর থাকবে স্পেনের এই নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডারের দিকেও। কারণ রদ্রি নিজের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারলে স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে। আর তাকে যদি কার্যকরভাবে আটকে দেওয়া যায়, তাহলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে আর্জেন্টিনার দিকেও।