বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ‘শেষ ম্যাচে’ লিওনেল মেসির কাছ থেকে যে জাদুকরী পারফরম্যান্সের অপেক্ষায় ছিল আর্জেন্টিনা, তা আর দেখা গেল না। পুরো ৯০ মিনিটের বেশির ভাগ সময়ই তিনি ছিলেন প্রায় বিচ্ছিন্ন। বলের স্পর্শও পেয়েছেন খুব কম, আর নিজের স্বাভাবিক নৈপুণ্য দেখানোর সুযোগও তৈরি করতে পারেননি।
ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য একবার আলোচনায় আসেন মেসি। এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখার পর তিনি রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া মুখ ঢেকে তার সঙ্গে কথা বলছেন। তবে মেসির সেই অভিযোগ আমলে নেননি রেফারি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসি অসংখ্য স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। এবারের আসরেও কয়েকটি ম্যাচে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। কিন্তু ফাইনালে ‘সেই মেসিকে’ দেখা যায়নি। অতিরিক্ত সময়ের তার একমাত্র উল্লেখযোগ্য শটটি স্পেনের রক্ষণেই আটকে যায়, গোলরক্ষক উনাই সিমনকে পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি একবারও।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহুবার মেসির ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। অনেক সময় দলের পুরো পরিকল্পনাই ছিল বলটি মেসির কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের উপস্থিতিতে সেটি অস্বাভাবিকও ছিল না। কিন্তু এই ফাইনালে স্পেনের কড়া মার্কিংয়ে তিনি কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিলেন। আর মেসিকে থামিয়ে দেওয়ার পর আর্জেন্টিনার কাছেও ছিল না কার্যকর কোনো বিকল্প পরিকল্পনা।
ফাইনালের এই পরাজয় মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য এক বিষণ্ন ও বেমানান সমাপ্তি হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে এটি মনে করিয়ে দেয় এক দশক আগের সেই স্মৃতি। ২০১৬ সালে চিলির কাছে কোপা আমেরিকার ফাইনাল হেরে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তখন নিজ দেশেও তাকে ঘিরে সমর্থকদের ভালোবাসা আজকের মতো সর্বজনীন ছিল না।
তবে সেখানেই শেষ হয়নি মেসির পথচলা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার দ্বিতীয় অধ্যায় ছিল অসাধারণ। এই সময়ে তিনি আর্জেন্টিনাকে উপহার দেন একটি বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা। দেশের ফুটবল ইতিহাসে নিজের কিংবদন্তি মর্যাদাও আরও দৃঢ় করেন।
নিউ জার্সিতে তিনি হয়তো চেয়েছিলেন রূপকথার মতো একটি বিদায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাগ্য আর সহায় হয়নি আর্জেন্টিনার এই মহানায়কের দিকে।