লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা থামছেই না। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের একাংশ যেখানে দাবি করছিল, এখনই জাতীয় দলকে বিদায় বলছেন না মেসি, সেখানে তার ঘনিষ্ঠ সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেসের একটি মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পারেদেসের বিশ্বাস, আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচটি হয়তো ইতোমধ্যেই খেলে ফেলেছেন মেসি।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে রদ্রিগো ডি পলের পাশাপাশি মেসির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠদের একজন পারেদেস। পিএসজিতে একসঙ্গে খেলার পাশাপাশি জাতীয় দলেও প্রায় ৯ বছরের সতীর্থ তারা। তাই বিশ্বকাপের ফাইনালের পর মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে হয় পারেদেসকে।
গত রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। এটিই যে ৩৯ বছর বয়সী মেসির শেষ বিশ্বকাপ, তা নিয়ে প্রায় কারও সংশয় নেই। তবে এরপরও প্রশ্ন ছিল, জাতীয় দলের হয়ে আর দেখা যাবে কি না তাঁকে।
এর আগে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, আপাতত অবসর নিচ্ছেন না মেসি। আরও কয়েক মাস খেলতে চান তিনি। সেই সময়ের মধ্যে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তাঁর জন্য একটি বিশেষ বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও করছে, যাতে ঘরের দর্শকদের সামনে বিদায় জানাতে পারেন তিনি।
কিন্তু কোপা সুদামেরিকানা প্লে-অফে বোকা জুনিয়র্সের জয়ের পর মিক্সড জোনে কথা বলতে গিয়ে পারেদেস ভিন্ন ইঙ্গিত দেন। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের ফাইনালই হয়তো জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ ম্যাচ। পারেদেস বলেন, ‘এটা কষ্টদায়ক। কারণ, পুরো বিশ্বকাপে আমরা যেমনটা বলে এসেছি, আমরা চাইনি শেষ ম্যাচটি কখনো আসুক। আমার মনে হয়, সে ঠিক করেই রেখেছিল যে এটিই জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ।’
তবে নিজের এই মন্তব্যের পরই মেসিকে আরও কিছুদিন জাতীয় দলে দেখতে চাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান পারেদেস। তিনি বলেন, ‘আশা করি তা হবে না। আশা করি, সে খেলা চালিয়ে যেতে পারবে। সিদ্ধান্ত তার নিজের। যা তাকে খুশি করবে, নিশ্চিতভাবেই সেটা আমাদেরও খুশি করবে।’
এদিকে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর স্পেনের দুই খেলোয়াড়ের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন পারেদেস। সেই ঘটনাকে ঘিরে তদন্তও শুরু করেছে ফিফা। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেননি ৩২ বছর বয়সী এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন কি না, সেটি নিয়ে সময় নিতে চান তিনি।
পারেদেস বলেন, ‘আমি জানি না। এ নিয়ে ভাবতে হবে, তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না এবং এটি নিশ্চিতভাবে এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে আমাদের কথা বলতে হবে...অনেকের জন্যই খেলা চালিয়ে যাওয়া না–যাওয়ার বিষয়টি কঠিন এক সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে।’