শেষ মুহূর্তে ফুটবল ম্যাচের ভাগ্য বদলে যাওয়ার গল্প নতুন নয়। এবার যেন সেই নাটকীয়তারই অংশ হয়ে গেলেন ফিফার বিতর্কিত সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কিছুদিন আগেও ২০২৭ সালে চতুর্থ মেয়াদে ফিফার সভাপতি হওয়াটা তার জন্য প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তের কয়েকটি ধাক্কায় সেই পথ এখন কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক অধিকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির যে পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো, সেটি বাতিল করেছে ফিফা। আর এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই দেখছেন তার বড় রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে।
প্রস্তাব সামনে আসার পরই ইউরোপসহ বিভিন্ন ফুটবল সংস্থা তীব্র আপত্তি জানায়। অভিযোগ ওঠে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় সম্পদ বিশ্বকাপকে বাণিজ্যিক স্বার্থে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ অনেক সংগঠকও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।
২০১৬ সালে আরেক বিতর্কিত সভাপতি সেপ ব্লাটারের পর ফিফার নেতৃত্বে আসেন ইনফান্তিনো। শুরুতে স্বচ্ছতা ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও সময়ের সঙ্গে তার নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা বাড়ে। ক্লাব বিশ্বকাপের বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা, কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে অবস্থান, সৌদি আরবকে ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ দেওয়া, বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি।
তবে সবসময়ই ফিফার আর্থিক সাফল্য তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় সংস্থার আয় বাড়ানোর কৌশলই ছিল তার সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু এবার সেই বাণিজ্যিক পরিকল্পনাই উল্টো চাপ তৈরি করেছে।
যদিও ইনফান্তিনোর সামনে এখনো পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তাকে সরাতে প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ও বড় ধরনের রাজনৈতিক সমর্থন। এখনো ট্রাম্প, কাতার ও সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী পক্ষ তার পাশে রয়েছে।
তবে ফুটবলের মাঠে যেমন শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কিছু নিশ্চিত নয়, ইনফান্তিনোর ক্ষেত্রেও তাই। ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে এখন তাকে খেলতে হবে কঠিন এক ম্যাচ; যেখানে একটি ভুল সিদ্ধান্তই বদলে দিতে পারে তার ভবিষ্যৎ।