ফিফার বিতর্কিত সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে তার এক কথিত প্রেমিকাকে সংস্থাটি মোটা অঙ্কের বিদায়ী ভাতা দিয়েছিল! এমন চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এনেছে লন্ডনের দ্য টেলিগ্রাফ। অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পর্কের সময় ওই নারীকে পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং পরে উয়েফা ছাড়ার সময় তাকে কমপক্ষে লাখ ইউরোর ছয় অঙ্কের বিদায়ী ভাতা দেওয়া হয়েছিল।
শুধু তাই নয়, চাকরি ছাড়ার পর একটি বিজনেস স্কুলে ওই নারীর এমবিএ পড়ার পুরো খরচও উয়েফা বহন করেছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। টেলিগ্রাফের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন সহকর্মী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, ইনফান্তিনো নিজেই যেন ওই নারী মোটা অঙ্কের ভাতা নিয়ে উয়েফা ছাড়েন, তা নিশ্চিত করেছিলেন।
গতকাল শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে উয়েফা অর্থপ্রদানের বিষয়টি স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্কের অভিযোগ সম্পর্কে তারা জানত। পরে সংস্থাটি নিজেদের নিয়মকানুন ‘আরও কঠোর’ করেছে বলেও জানিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পর্ক শুরুর সময় ওই নারী উয়েফায় সাধারণ প্রশাসনিক পদে ছিলেন। পরে তাকে আরও লাভজনক ব্যবস্থাপকীয় পদে উন্নীত করা হয় এবং তার বেতন ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ১,৬০,০০০ সুইস ফ্রাঙ্ক করা হয়েছিল। এই দ্রুত পদোন্নতি নিয়ে তখনই সহকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছিল এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
উয়েফার তৎকালীন সভাপতি মিশেল প্লাতিনি বিষয়টি নিয়ে ইনফান্তিনোকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উয়েফার এক অভ্যন্তরীণ সূত্রের ভাষ্য, ‘তিনি অনেক বড় একটা ভুল করেছিলেন এবং এটি প্রায় তার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিচ্ছিল। উয়েফার ভেতরের অনেকেই প্লাতিনিকে বলছিলেন, ‘আপনার তাকে বরখাস্ত করা উচিত'।’ এরপর প্লাতিনি জিয়ানি ইনফান্তিনোকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘সে থাকবে নাকি তুমি?’ জবাবে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘সে চলে যাবে’, এবং শেষ পর্যন্ত ওই নারী উয়েফা ছাড়েন।
টেলিগ্রাফের অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠেছে, চাকরি ছাড়ার পরও ইনফান্তিনো তার যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে ওই নারীর জন্য একই ধরনের একটি লাভজনক নতুন চাকরির ব্যবস্থা করেছিলেন। পুরো বিষয়টি সামনে আসার পর ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর অবস্থান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন ইনফান্তিনো। ফিফার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইনফান্তিনো ‘এই অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করছেন’ এবং এগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন। মুখপাত্র আরও বলেন, ‘অনুচিত আচরণ বা সংবিধি ও নিয়ম লঙ্ঘনের যেকোনো ইঙ্গিত মানহানিকর।’