ঘটনাবহুল প্রথম সেশনে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতেই ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ। বিপর্যস্ত স্বাগতিকরা দ্বিতীয় সেশনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের তিন পেসার তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদ সেই সুযোগ দেননি। তাদের দাপটে দ্বিতীয় সেশনেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে লেগেছে ধাক্কা।
বৃহস্পতিবার ডারউইনে প্রথম টেস্টের চা-বিরতি পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৮৩ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় সেশনের ২৬ ওভারে ১০৯ রান তুললেও হারিয়েছে ৪ উইকেট। দুই সেশন মিলিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার হাসান মাহমুদ। ৪৯ রান খরচ করে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ইবাদত ও তাসকিন পেয়েছেন ২টি করে।
৪ উইকেটে ৭৪ রান নিয়ে দ্বিতীয় সেশন শুরু করা অস্ট্রেলিয়া শুরুতে বেশ স্বচ্ছন্দেই এগোচ্ছিল। স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে আলেক্স কেয়ারির জুটিতে স্বস্তিও ফিরছিল স্বাগতিক শিবিরে। অস্ট্রেলিয়ার বিপদে হাল ধরে দুজন গড়ে তুলেছিলেন অর্ধশত রানের জুটি। কিন্তু থিতু হয়ে যাওয়া কেয়ারিকে দারুণ এক ডেলিভারিতে থামিয়ে দেন ইবাদত।
অফ স্টাম্পের ঠিক ওপরের বলটিতে জায়গা বের করতে পারেননি কেয়ারি। শেষ পর্যন্ত ব্যাটের সাহায্যে বল টেনে এনে নিজের স্টাম্পই ভেঙে দেন তিনি। ৪৩ বলে ১৯ রান করে ফেরেন কেয়ারি।
এরপর বো ওয়েবস্টারকে নিয়ে নতুন জুটি গড়ার চেষ্টা করেন স্মিথ। কিছুটা সঙ্গ দেওয়ার পর তাসকিনের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বিদায় নেন ওয়েবস্টার। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল ভেতরে ঢুকে সরাসরি বেলস উড়িয়ে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ফের নামে অস্বস্তি।
অন্য প্রান্তে অবিচল স্মিথ ফিফটি পেরিয়ে তখন অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র বড় ভরসা। তবে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বেশিক্ষণ তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। হাসান মাহমুদের অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে লিটন দাসের গ্লাভসে ধরা পড়েন কামিন্স।
সেখানেই থামেননি হাসান। লোয়ার অর্ডারে ব্যাট হাতে কার্যকর মিচেল স্টার্ককেও নিজের চতুর্থ শিকার বানান এই পেসার। এবারও বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বল স্টার্কের ব্যাটের কানায় লেগে সরাসরি জমা পড়ে লিটন দাসের গ্লাভসে।
দুই সেশনেই চারটি করে উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া এখন চাপে। একদিকে বাংলাদেশের পেসারদের আগুনঝরা বোলিং, অন্যদিকে এক প্রান্তে একাই লড়ছেন স্মিথ। ডারউইনে টেস্টের নিয়ন্ত্রণ কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার।