ডারউইনে রীতিমতো আগুন ঝরালেন বাংলাদেশের পেসাররা। হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদের তোপে দাঁড়াতেই পারেনি অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ২০০ রানও করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয়েছে তারা। বাংলাদেশের হয়ে একাই ৬ উইকেট শিকার করেছেন হাসান মাহমুদ।
বাউন্সি উইকেটে নতুন বল হাতে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের অস্বস্তিতে রাখেন হাসান ও তাসকিন। দুই দিকেই সুইংয়ের সঙ্গে বাড়তি বাউন্স আদায় করে নেন হাসান। তৃতীয় ওভারেই ট্রাভিস হেডকে বিপাকে ফেলেছিলেন তিনি। তবে ক্যাচ নিরাপদ জায়গায় পড়ায় সেবার বেঁচে যান এই ওপেনার।
১২তম ওভারে আসে বাংলাদেশের প্রথম সাফল্য। অফ স্টাম্পের বাইরে হাসানের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে এজ হন জ্যাক ওয়েদারেল্ড। লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়ে বল। ২৩ রানে ফিরলে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। নিজের পরের ওভারেই আবার আঘাত করেন হাসান। ইনসুইংয়ে হেডের ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল আঘাত করে স্টাম্পে। ২২ রান করে ফেরেন এই ওপেনার।
এরপর এবাদতের বলে জীবন পেয়েও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি স্টিভেন স্মিথ। তৃতীয় স্লিপে তার ক্যাচ ফেলে দেন তানজিদ হাসান তামিম। তবে পরের ওভারেই মার্নাস ল্যাবুশেনকে ফিরিয়ে নিজের প্রথম উইকেট পান এবাদত। ২০ বল খেলে মাত্র ১ রান করেন ল্যাবুশেন।
দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে পাল্টা আক্রমণে ফেরানোর চেষ্টা করেন ক্যামেরন গ্রিন। তাসকিনকে ছক্কা হাঁকিয়েও শেষ পর্যন্ত তার ফাঁদে পড়েন এই ব্যাটার। ১৩ বলে ১৩ রান করে মুশফিকুর রহিমের হাতে ধরা পড়েন গ্রিন। লাঞ্চে যাওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৭৪ রান।
লাঞ্চের পর স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। দুজনের ৫৫ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে বিপদ থেকে বের করে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু সেই জুটি ভেঙে দেন এবাদত। অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে ভেতরে ঢোকা বলে পাঞ্চ করতে গিয়ে ক্যারি নিজের স্টাম্পেই বল টেনে নেন। ১৯ রানে ফেরেন তিনি।
এরপর তাসকিনের বলে বোল্ড হন বো ওয়েবস্টার। ১০ বলে ১২ রান করেন তিনি। প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্কও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ফলে চা বিরতির আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া।
চা বিরতির পর আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে নিজের উইকেট হারান স্মিথ। হাসানের খাটো লেংথের বল পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয়। সহজ ক্যাচে ৭১ রানে থামেন অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটার। এরপর নাথান লায়নকেও ফিরিয়ে নিজের ৬ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানেই থামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। বাংলাদেশের পেসারদের এমন আগুনঝরা বোলিংয়ে ডারউইন টেস্টে এখন চালকের আসনে টাইগাররা।