অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর চোখে, যেকোনো ফরম্যাট মিলিয়ে দেশের ক্রিকেটে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জয়।
ডারউইনে চার দিনের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে সব বিভাগে ছাপিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করে ২২৮ রানের লিড নেয় তারা। দ্বিতীয় ইনিংসেও মেহেদী হাসান মিরাজের পাঁচ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে থামিয়ে জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে শান্ত বলেন, ‘যেকোনো ফরম্যাট মিলিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি এখন পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে বড় জয়। আমরা বিশ্বাস করি, সামনেও আমরা নতুন কিছু করে দেখাতে পারব।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সাফল্যের পেছনে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের উন্নতিকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক। গত কয়েক বছরে টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে পেসারদের মানসিকতায় বড় পরিবর্তন এসেছে বলেও মনে করেন তিনি। ‘এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের টেস্ট ফরম্যাটে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। এখন তারা টেস্ট খেলতে চায়, পারফর্ম করতে চায় এবং বিশ্বমানের হতে চায়। এই মানসিকতাটা এখন তাদের মধ্যে আছে।’
দলের সিনিয়র ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকের অবদানের কথাও উল্লেখ করেছেন শান্ত। তরুণ পেসারদের টেস্ট ক্রিকেটে উৎসাহিত করতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে মনে করেন তিনি।
প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিমেরও প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ‘ও খুবই রোমাঞ্চকর খেলোয়াড়। সাদা বলের ক্রিকেটে ও সবসময় আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। কিন্তু এই টেস্টে নিজের চরিত্র দেখিয়েছে, খুব শান্ত ছিল এবং বলের মেরিট অনুযায়ী খেলেছে। আমরা জানি, টেস্ট ক্রিকেট খেলার সামর্থ্য ওর আছে এবং এই ম্যাচে সে দলের জন্য দারুণ অবদান রেখেছে।’
এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় টেস্টের আগে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না শান্ত। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রমাণ আছে, কিন্তু ২-০ করতে হলে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। এই টেস্টের মতোই সেশন ধরে খেলতে হবে, প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। বোলাররা নিজেদের কাজ করবে, ব্যাটাররা অবদান রাখবে। ম্যাকেতে আমাদেরও সেটাই করতে হবে।’