বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে ২০০০ সালে। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। অথচ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে টেস্ট খেলার সুযোগ এসেছে মাত্র একবার। দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ। ছোট দল, এই পরিচয়ের কারণে অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ডের মতো ক্রিকেট পরাশক্তিদের বিপক্ষে নিয়মিত টেস্ট খেলার সুযোগও মেলে না টাইগারদের। এ নিয়ে আক্ষেপ ছিল অনেকেরই। তবে এবার মাঠেই সেই আক্ষেপের জবাব দিল টাইগাররা।
বাংলাদেশের এই অবিস্মরণীয় জয়ে উচ্ছ্বসিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ। নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে তিনি বাংলাদেশের এই জয়কে বিশেষ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইয়ান বিশপ লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবং দেশের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক অর্জন। অতীতে যারা তাদের প্রাপ্য প্রশংসা বা স্বীকৃতি দিতে কার্পণ্য করেছে, এখন তাদের কাছ থেকে যথাযথ সম্মান পাওয়ার পূর্ণ অধিকার এই দলের রয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা মেহেদী হাসান মিরাজ, তানজিদ হাসান তামিম ও হাসান মাহমুদের পাশাপাশি কোচ ফিল সিমন্সেরও প্রশংসা করেছেন বিশপ।
তিনি বলেন, ‘মেহেদী, তানজিদসহ দলের অনেকেই এই জয়ে বড় অবদান রেখেছেন। তবে বিশেষ করে হাসান মাহমুদের কথা বলতেই হয়, পুরোপুরি ফিট থাকা সাপেক্ষে সে দীর্ঘদিন ধরেই নিখুঁত লাইন ও লেংথে বল করে যাচ্ছে। তার বোলিং অ্যাকশনও দারুণ পরিপাটি ও গোছানো। কোচ ফিল সিমন্স ও তার পুরো দলের জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত। চমৎকার খেলেছে বাংলাদেশ।’
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমন জয় শুধু একটি টেস্ট ম্যাচের জয় নয়, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্যও এটি বড় এক বার্তা। যে দলকে বছরের পর বছর ‘ছোট দল’ হিসেবে দেখা হয়েছে, সেই দলই এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে স্বাগতিকদের চার দিনের মধ্যে হারিয়ে দিয়েছে।
মাঠের এই পারফরম্যান্সের পর ইয়ান বিশপের কথাটিও তাই নতুন করে আলোচনায় আসছে—বাংলাদেশকে এখন আর শুধু সম্ভাবনাময় দল হিসেবে দেখার সময় নয়, তাদের প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়ার সময়ও এসেছে।