বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টেস্টের লড়াই শেষ হয়েছে মাত্র দুই দিনেই। ৭৫০ বলে শেষ হওয়া ম্যাচটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমে ম্যাকাইয়ের উইকেটের তীব্র সমালোচনা হলেও জানা গেছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার কাছ থেকে নেতিবাচক রেটিং পাচ্ছে না এই উইকেট।
টেস্ট ভেন্যু হিসেবে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার অভিষেক ম্যাচের দায়িত্বে থাকা ম্যাচ রেফারি স্যার রিচি রিচার্ডসন উইকেটটিকে ‘খুব ভালো’ রেটিং দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন সেভেন ক্রিকেটের প্রধান প্রতিবেদক টম মরিস। তবে এই মূল্যায়ন কার্যকর হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন।
ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫১ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৭৫০ বলে শেষ হওয়া এই ম্যাচটি সবচেয়ে কম বলে ফল পাওয়া টেস্টগুলোর মধ্যে চতুর্থ।
তবে উইকেটকে দায়ী করছেন না অস্ট্রেলিয়ার পেসার জশ হ্যাজলউড। দ্বিতীয় দিন ম্যাচ শেষ হওয়ার পর তিনি ফক্স ক্রিকেটের অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে বলেন, ‘হ্যাঁ, উইকেট বেশ ভালো ছিল। আমার মনে হয় না, ম্যাচটি দুই দিনের হওয়ার কথা ছিল। উইকেটে যথেষ্ট সহায়তা ছিল। সম্ভবত আজ (দ্বিতীয় দিন) উইকেট আরও দ্রুতগতির হয়ে উঠেছিল।’
অন্যদিকে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান ডট কম’ লিখেছে, ‘দুই দিনের টেস্ট বন্ধ করতেই হবে। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হচ্ছে।’ সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘ক্রিকেটের জন্য এটা ক্ষতিকর।’
ম্যাকাই টেস্টে গড়ে প্রতি ২৫ বল পরপর উইকেট পড়েছে। প্রথম দিনেই পড়েছে ১৮ উইকেট। এ প্রসঙ্গে হ্যাজলউড বলেন, ‘প্রথম দিনে সামান্য সিম মুভমেন্ট ছিল, যা বেশির ভাগ টেস্টেই আপনি আশা করেন। কিন্তু বলের উজ্জ্বলতা চলে যাওয়ার পর খুব বেশি কিছু হচ্ছিল না। একজন বোলারের দৃষ্টিকোণ থেকে অন্তত তা-ই মনে করছি। উইকেটটা এর চেয়েও ভালো মনে হয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই দিনে শেষ হওয়া পার্থের অ্যাশেজ টেস্টও এর আগে ‘খুব ভালো’ পিচের স্বীকৃতি পেয়েছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার চার ধরনের পিচ গ্রেডিংয়ের মধ্যে ‘খুব ভালো’ সর্বোচ্চ।
ম্যাকাইয়ে বড় ব্যবধানে হারলেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের অবস্থান বদলায়নি। ২০২৫-২৭ চক্রে চার নম্বরেই আছে শান্তর দল। ছয় ম্যাচে তিন জয়, দুই হার ও এক ড্রয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪০ এবং সফলতার হার ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।