গাজা থেকে ইসরায়েলের দিকে ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন ওড়ানো বন্ধ না হলে হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। রোববার (২৩ আগস্ট) দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ সতর্কতা দেন। পাশাপাশি এসব উৎক্ষেপণের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং যেসব এলাকা থেকে এগুলো ওড়ানো হচ্ছে, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার সন্ধ্যায় নেতানিয়াহু ও কাটজ গাজা থেকে ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন উৎক্ষেপণের কথিত হুমকি নিয়ে নিরাপত্তা বৈঠক করেন। পরে এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ইসরায়েলের দিকে এসব উৎক্ষেপণ অবিলম্বে বন্ধ না হলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদার করবে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক দিনে গাজা থেকে ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী এলাকার দিকে বেশ কয়েকটি ঘুড়ি ওড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ঘুড়ি শনিবার সীমান্তবর্তী এলাকায় পাওয়া যায়।
তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, এসব ঘুড়িতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ঘুড়িগুলোকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখানো হলেও হামাসের দাবি, এগুলো গাজার শরণার্থী শিবির থেকে ওড়ানো শিশুদের খেলনা। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, এসব ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে গাজায় ইসরায়েলি হামলা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলের হুমকির মধ্যেই রোববার গাজায় হামলা চালানো হয়। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, মধ্য গাজায় দুটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত দুজন নিহত হন, তাদের একজন চার বছর বয়সী শিশু, আহত হন সাতজন।
আজ-জাওয়াইদা এলাকায় একটি ভবনে চালানো হামলায় চার বছর বয়সী মুহাম্মদ আবদেল সালাম তাহা নিহত হয় বলে ফিলিস্তিনি সূত্র জানিয়েছে। আরেকটি হামলা হয় নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে।
এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরও এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।