পাকিস্তান ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি জাভেদ মিয়াঁদাদ ও ইমরান খানের সম্পর্কের ইতিহাসে মতপার্থক্য, বিতর্ক ও নানা ঘটনা থাকলেও দীর্ঘদিনের সতীর্থের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সব ভেদাভেদ যেন ভুলে গেলেন মিয়াঁদাদ। কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের প্রসঙ্গ উঠতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি ইমরানের স্বাস্থ্য ও কারাগারে তার সঙ্গে আচরণ নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই ইউটিউব চ্যানেল ন্যারেটিভ-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরানের সততা নিয়ে নিজের বিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন মিয়াঁদাদ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘তিনি একজন সৎ মানুষ। তিনি এমন কেউ নন, যিনি দুর্নীতিতে জড়ান। তা না হলে তিনি অনেক কিছুই করতে পারতেন। তাতারকে ছেড়ে দিলে কী হবে? তিনি কি কাউকে খেয়ে ফেলবেন, নাকি কারও ক্ষতি করবেন? তিনিও তো কারও সন্তান। আমি সব সময় ভাবি, তিনি এখন কী করছেন।’
ইমরানকে খুব কাছ থেকে চেনেন বলেই তার সততা নিয়ে নিজের বিশ্বাসের কথা জোর দিয়ে বলেন মিয়াঁদাদ। পাকিস্তান দল ও কাউন্টি ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলেছেন দুজন। ইংল্যান্ডে ছয় মাস একসঙ্গে থাকার সময় থেকে শুরু করে পাকিস্তান দলের হয়ে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়া—তাদের সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
মিয়াঁদাদ বলেন, ‘ইমরান আর আমি একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি। ইংল্যান্ডে ছয় মাস একসঙ্গে থেকেছি। একসঙ্গে খেয়েছি, সময় কাটিয়েছি। পরে পাকিস্তান দলেও একসঙ্গে খেলেছি। আমার কাছ থেকে তাকে অধিনায়কত্বও দিয়েছিলাম। আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো ছিল।’
ইমরানের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি মিয়াঁদাদ। কারাগারে থাকা দীর্ঘদিনের সতীর্থের কথা মনে করে আবেগে ভেঙে পড়েন পাকিস্তানের কিংবদন্তি এই ব্যাটার।
তিনি বলেন, ‘সবাইকে বসতে হবে এবং বিষয়টির সমাধান করতে হবে। সমস্যা যা-ই থাকুক, পাকিস্তানের জন্য সেটিই এখন দরকার। বিষয়টি অযথা দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। আমার প্রার্থনা, ন্যায়সংগত বিষয়টির জয় হোক। আমি যা বলছি, হৃদয় থেকেই বলছি।’
ইমরানকে জাতীয় বীর হিসেবে উল্লেখ করে পাকিস্তান সরকারের কাছেও বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন মিয়াঁদাদ। তিনি বলেন, ‘যা ভুল, তা ভুলই। সে অবশ্যই একজন জাতীয় বীর। আমি প্রার্থনা করি, এই সমস্যার সমাধান হোক। পাকিস্তান সরকারের কাছে আমার আবেদন। আমি ইমরানকে সবদিক থেকেই চিনি। সে একজন সৎ মানুষ।’