সোসিয়েদাদে বৃষ্টিভেজা রাতে বার্সেলোনা শুধু একটি ম্যাচই হারেনি, হারিয়েছে নিখুঁত ছন্দও। কাঠের ফ্রেম, ভিএআর আর একের পর এক হতাশার ভেতর দিয়ে নাটকীয় এক লড়াই শেষে রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেছে কাতালানরা। এই পরাজয়ে থেমে গেছে তাদের টানা ১১ ম্যাচের জয়রথ, আর লা লিগার শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধানও নেমে এসেছে বিপজ্জনক এক পয়েন্টে।
চাপ নিয়েই মাঠে নামে বার্সেলোনা। এর আগের রাতে লেভান্তের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ যে বার্তা পাঠিয়েছিল, তা স্পষ্ট ছিল। ম্যাচজুড়ে সেই চাপ যেন বার্সেলোনাকে তাড়া করে ফিরেছে—চারবার বল লেগেছে পোস্টে, দুটি গোল বাতিল হয়েছে, আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়ের দরজা খুলেও বন্ধ হয়ে গেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনার বিস্ফোরণ। খেলার ৩০ সেকেন্ডের মাথায় মিকেল ওয়ারসাবালের জাল খোঁজা শট অফসাইডে বাতিল হলে স্টেডিয়াম নিশ্চুপ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরই অপর প্রান্তে ফেরমিন লোপেজের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শট জালে জড়ালেও, দানি ওলমোর ফাউলের কারণে গোলের আনন্দে পানি ঢেলে দেয় রেফারির বাঁশি।
ডান প্রান্তে লামিন ইয়ামাল ছিলেন বার্সার প্রধান অস্ত্র। একের পর এক ড্রিবল, ক্রস আর শটে বারবার ভাঙার চেষ্টা করেছেন সোসিয়েদাদের রক্ষণ। কিন্তু কখনো অফসাইড, কখনো পোস্ট—ভাগ্য যেন তার পাশে দাঁড়ায়নি। তবে এসবের পরও রাফিনিয়ার অভাব একেবারে স্পষ্ট ছিল।
খেলার ধারার বিপরীতে প্রথম আঘাত হানে স্বাগতিকরা। গনসালো গুয়েদেসের নিখুঁত ক্রসে দারুণ ভলিতে গোল করে রিয়ালে সোসিয়েদাদকে উল্লাসে ভাসান ওয়ারসাবাল। বিরতির ঠিক আগে ইয়ামালের ওপর ফাউলে পেনাল্টির আশা জাগলেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে সেই আশাও মিলিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন একপেশে আক্রমণে নেমে পড়ে বার্সেলোনা। কিন্তু দেয়াল হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক অ্যালেক্স রেমিরো। একের পর এক সেভে হতাশ করেন রাশফোর্ড, ইয়ামালদের। কখনো ক্রসবার, কখনো পোস্ট—গোললাইন যেন বার্সার বিপক্ষেই চুক্তিবদ্ধ ছিল।
অবশেষে ৭০ মিনিটে স্বস্তির নিঃশ্বাস। ইয়ামালের নিখুঁত ক্রসে হেড করে সমতা ফেরান মার্কাস রাশফোর্ড। মনে হচ্ছিল, এবার বুঝি ম্যাচ ঘুরে যাচ্ছে। কিন্তু ফুটবল আবারও নির্মম রূপ দেখায়। ধারাবাহিকতায় থাকা গোলরক্ষক গার্সিয়ার ভুলে ফিরতি বল পেয়ে গুয়েদেস গোল করলে আবার এগিয়ে যায় সোসিয়েদাদ।
শেষ মুহূর্তগুলো ছিল নিখাদ নাটক। বার্সা মরিয়া, সোসিয়েদাদ রক্ষণে অবিচল। যোগ করা সময়ে সরাসরি কর্নার থেকে রাশফোর্ডের শট পোস্টে লেগে ফিরতেই যেন রাতের সব হতাশা একসঙ্গে জমা হয়।
এই পরাজয়ের পর ২০ ম্যাচে বার্সেলোনার সংগ্রহ ৪৯ পয়েন্ট, সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে রিয়াল মাদ্রিদ।