সেনেগালের ছোট্ট বাম্বালি শহর, কয়েক হাজার মানুষের বাস। সেখানে নেই কোনো পাকা রাস্তা কিংবা হাসপাতালের ব্যবস্থা। এমন এক জগৎ থেকে উঠে এসেছেন সাদিও মানে, যিনি খালি পায়ে ফুটবল খেলেছেন, কঠোর দারিদ্র্যতার মাঝেও টিকে ছিলেন অনন্য এক মানসিকতায়।
আজ সেই সাদিও মানে শুধু ফুটবলের তারকা নন, বরং সেই ছোট্ট গ্রামের আলোর প্রতীক তিনি। লিভারপুলে ছয় বছরের অধ্যায়ে সব শিরোপা জিতেও, বিলাসবহুল গাড়ি বা ডায়মন্ডের প্রতি আকৃষ্ট হননি। তিনি শুধুই চেয়েছেন গ্রামের মানুষ যেন মুখে হাসি ধরে রাখতে পারেন। এরপর ফুটবলের দলবদলে পাড়ি জমান জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে। ক্লাবের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ইউরোপ ছেড়ে পাড়ি জমান সৌদির আল নাসরে। এতসব অর্জনের পরও সাদিও মানে অন্য ১০ জন সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করেন।
এই মানুষটাই নিজ খরচে তার গ্রামে হাসপাতাল ও স্কুল নির্মাণ করেছেন। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে উপহার দিয়েছেন ল্যাপটপ। খেলার মাঠ, ডাকঘর, ফোর-জি নেটওয়ার্ক, গ্যাস স্টেশন—সবই বানিয়েছেন নিজস্ব অর্থায়নে। প্রতিমাসে অর্থ দিয়ে দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারগুলোর পাশে থাকেন তিনি।
মানে নিজের সাফল্যকে পৌঁছে দিয়েছেন মানুষের উৎসর্গে। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমার ১০টি ফেরারি বা ২০টি ডায়মন্ডের ঘড়ি দরকার নেই। আমি যা উপার্জন করি, তার মাধ্যমে গ্রামের মানুষদের খুশি করাই আমার লক্ষ্য।’
মানের জীবনের গল্প কেবল ফুটবল নয়; মানবতা, সহানুভূতি ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার গল্প। খালি পায়ের সেই ফুটবলারই সেনেগালের রূপকথার নায়কের চেয়েও বেশি কিছু। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে স্বাগতিক মরক্কোকে হারিয়ে সেই মানুষটাই দ্বিতীয়বারের মতো সেনেগালকে উপহার দিলেন আফ্রিকান নেশনস কাপের ট্রফি। আফ্রিকান নেশনস কাপের ফাইনালে তার সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, জন্মস্থান ও তার আশপাশের মানুষেরও।
গোল কিংবা শিরোপা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন—এটাই আমাদের শিখিয়েছেন সাদিও মানে।