সান সিরোর আলোঝলমলে রাতে গল্পটা আসলে আর্সেনালের জয় নয়, গল্পটা ছিল প্রত্যাবর্তনের। দীর্ঘ চোটের অন্ধকারে হারিয়ে যেতে বসা গ্যাব্রিয়েল জেসুস যেন ইউরোপের এক ঐতিহাসিক মঞ্চে নিজেকেই নতুন করে আবিষ্কার করলেন। ইন্টার মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে তার দুই গোলেই বদলে গেল ম্যাচের গতিপথ, বদলে গেল আলোচনার কেন্দ্র।
শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, এই আর্সেনাল আত্মবিশ্বাসী। বলের দখল, চাপ আর গতিতে স্বাগতিকদের চেপে ধরেছিল মিকেল আর্টেটার দল। দশ মিনিটেই সেই আধিপত্যের পুরস্কার আসে। গোলটি কেবল স্কোরলাইন বদলায়নি, বদলে দেয় জেসুসের মানসিক জগৎও। তবে ইন্টার দ্রুতই সমতায় ফেরে, আর মনে হচ্ছিল ম্যাচটা হয়তো নতুন এক নাটকের দিকে এগোচ্ছে।
কিন্তু সেখানেই জেসুস আবার পার্থক্য গড়ে দিলেন। যখন চাপ বাড়ছে, যখন সান সিরোর গ্যালারি গর্জে উঠছে—ঠিক তখনই তিনি আবার হাজির। দ্বিতীয় গোলটি ছিল এক স্ট্রাইকারের ক্ষুধার প্রতিফলন।
দ্বিতীয়ার্ধে ইন্টার চেষ্টা করে ঘুরে দাঁড়ানোর। বড় নাম, বড় অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি তারা। বিপরীতে আর্সেনাল ছিল ঠান্ডা মাথার, ধৈর্যশীল। শেষদিকে ভিক্টর গায়োকেরেসের গোল যেন নিশ্চিত করে, এই রাতটা লন্ডনের ক্লাবেরই।
এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট বা গ্রুপের শীর্ষে থাকা নয়। এটা ছিল আর্সেনালের ইউরোপীয় অভিযানের আরেকটি আত্মবিশ্বাসের ধাপ। টানা সাত ম্যাচ জয় করে নতুন ক্লাব রেকর্ড, শেষ ষোলোর টিকিট—সবকিছুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল জেসুসের গল্পটা।
ম্যাচ শেষে তার চোখে জল ছিল, কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা। চোট তাকে ভেঙে দেয়নি, বরং আরও শক্ত করেছে। এই বার্তাই যেন তিনি দিয়ে গেলেন। এই জয়ে রেকর্ড গড়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৭ ম্যাচের সবকটিতে জিতে আর্সেনাল আছে সবার ওপরে।