রাজনৈতিক টানাপোড়েনে পড়তে যাচ্ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড-সংক্রান্ত অবস্থানকে ঘিরে যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে।
বিশ্বকাপ মানেই যেখানে খেলোয়াড়দের স্বপ্ন, সমর্থকদের আবেগ আর কোটি কোটি মানুষের উৎসব; সেই মঞ্চে এবার অনিশ্চয়তার ছায়া। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। সিদ্ধান্তটি কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি একটি ক্রীড়া-নৈতিকতার পরীক্ষাও।
জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) এখন কঠিন এক সমীকরণের সামনে। একদিকে খেলোয়াড়দের দীর্ঘ প্রস্তুতি, সমর্থকদের প্রত্যাশা এবং ফুটবলের ঐতিহ্য; অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অবস্থান নেওয়ার চাপ। রাজনীতিবিদরা প্রকাশ্যে বয়কটের পক্ষে কথা বললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার পড়েছে ফুটবল প্রশাসনের ওপর।
এই বিতর্কে সাধারণ মানুষও বিভক্ত। সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, প্রায় অর্ধেক জার্মান নাগরিক বিশ্বকাপ বর্জনের পক্ষে। অর্থাৎ এটি আর শুধু কূটনৈতিক ইস্যু নয়, সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে ফুটবল নিজেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জার্মানি বিশ্বকাপ বর্জন করলে তার প্রভাব কেবল একটি দলের অনুপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এতে ফিফা, আয়োজক দেশ এবং বৈশ্বিক ক্রীড়াব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। ইউরোপের অন্যান্য দেশও তখন একই পথে হাঁটার কথা ভাবতে পারে।
সব মিলিয়ে প্রশ্নটা এখন শুধু, জার্মানি খেলবে কি খেলবে না তা নয়। প্রশ্ন হলো, বিশ্বকাপ কি রাজনৈতিক বাস্তবতার ঊর্ধ্বে থাকতে পারবে, নাকি বিশ্ব রাজনীতির চাপেই বদলে যাবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ?