চ্যাম্পিয়নস লিগের আলোঝলমলে রাত। একদিকে চাপ, অন্যদিকে প্রত্যাবর্তনের তাগিদ। ভুল করার সুযোগ নেই, এই সমীকরণ মাথায় নিয়েই মাঠে নেমেছিল বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ ও লিভারপুল। তিন ম্যাচে তিন রকম গল্প, তবে শেষটা এক—শেষ ষোলোর স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা।
চেক প্রজাতন্ত্রে যেন দুঃস্বপ্ন দিয়েই শুরু হয়েছিল বার্সেলোনার রাত। ম্যাচের দশ মিনিট না যেতেই ভাসিলের গোলে এগিয়ে যায় স্লাভিয়া প্রাগ। গ্যালারিতে উল্লাস, আর কাতালান বেঞ্চে চাপা উত্তেজনা। কিন্তু পিছিয়ে পড়েই যেন জেগে ওঠে বার্সা। লেভানডস্কি ও রাফিনিয়ার একের পর এক আক্রমণে ধীরে ধীরে দম বন্ধ হতে থাকে স্বাগতিকদের।
৩৪ মিনিটে ফেরমিন লোপেজের গোলে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। আট মিনিটের মধ্যেই আবারও সেই লোপেজ—একই দৃশ্য, ভিন্ন উল্লাশ। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে মনে হচ্ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বুঝি চলে এলো কাতালানদের হাতে। কিন্তু বিরতির আগমুহূর্তে ফের গোল হজমে সব হিসাব আবার শূন্যে।
দ্বিতীয়ার্ধে আর ভুল করেনি হান্সি ফ্লিকের দল। ৬২ মিনিটে দানি ওলমোর দুর্দান্ত ফিনিশ বদলে দেয় ম্যাচের গতিপথ। আর ৭০ মিনিটে লেভানডস্কির গোল যেন সব সংশয় চূর্ণ করে দেয়। শুরুতে ধাক্কা খেয়েও শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। সেই সঙ্গে বেঁচে থাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর স্বপ্ন।
একই সময়ে অন্য মাঠে কাজটা তুলনামূলক শান্তভাবেই সেরে নেয় বায়ার্ন মিউনিখ। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হ্যারি কেইনের হেডে ভাঙে ডেডলক। দুই মিনিট পর আবারও কেইন, এবার পেনাল্টি থেকে। স্কোরলাইন ২-০।
৬৩ মিনিটে কিম মিন-জের লাল কার্ডে দশ জনে পরিণত হলেও বাভারিয়ানদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি ইউনিয়ন জিলোয়াজ। প্রতিপক্ষ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে নির্বিঘ্নেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। সাত ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে বায়ার্ন, শীর্ষে থাকা আর্সেনালের থেকে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে বাভারিয়ানরা।
আরেক মাঠে, শুরুটা ছিল ধীর গতির, কিন্তু শেষটা চেনা লিভারপুলের মতোই। মার্সেইয়ের বিপক্ষে প্রথমার্ধে সুযোগ নষ্টের আক্ষেপ থাকলেও বিরতির ঠিক আগে সাবোসলাইয়ের বুদ্ধিদীপ্ত ফিনিশ এনে দেয় স্বস্তি।
দ্বিতীয়ার্ধে আত্মঘাতী গোলে আরও পিছিয়ে পড়ে মার্সেই। সুযোগ পেয়েও গোল করতে না পারা সালাহ যেন নাটকের খোরাকই বাড়িয়েছেন। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গাকপোর গোল, সব হিসেব সেখানেই চুকিয়ে যায়।
এই জয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকল আর্নে স্লটের লিভারপুল। মাঝপথে ছন্দ হারালেও আবারও প্রমাণ করল—এই দলটা হার মানতে জানে না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো এখন আর স্বপ্ন নয়, হাতছোঁয়া বাস্তবতা।
ইউরোপিয়ান এই রাত তাই শুধু জয়-পরাজয়ের গল্প নয়, এটা ঘুরে দাঁড়ানোর, চাপ সামলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার গল্প।