জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকের পর বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আবারও পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ। এছাড়া আইসিসির সভায় সুবিচার না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার পর জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে বিশ্বকাপ ইস্যুতে কথা বলতে বৈঠক ডাকেন আসিফ নজরুল। প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত আরও একবার জানিয়ে দেন আসিফ নজরুল। এই প্রসঙ্গে তার পুরো বার্তা নিচে তুলে ধরা হলো:
‘আসসালামু আলাইকুম। বাংলাদেশের জাতীয় দলের যে ক্রিকেট প্লেয়াররা আছেন, তাদের সঙ্গে বোর্ডের প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুল ভাই, বোর্ডের সিনিয়র কর্মকর্তা (নাজমুল আবেদীন) ফাহিম ভাই, আমাদের সচিবকে নিয়ে বসেছিলাম। আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্রিকেটের অনেক বড় একজন ভক্ত। আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমে লিটন আছে, মিরাজ আছে, নাজমুল আছে, সোহান, তামিম সবারই ভক্ত।’
‘তো স্বাভাবিকতই আমরা সবাই চেয়েছি আমরা যেন বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে পারি, আমরা যেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারি। কারণ আমাদের ক্রিকেটাররা একটা কষ্ট করে অর্জন করেছে। কিন্তু আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে, সেই নিরাপত্তা ঝুঁকি পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।’
‘আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোনো বায়বীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয় নাই। এটা একটা সত্যিকারের ঘটনা থেকে হয়েছে। যেখানে আমাদের দেশের একজন সেরা প্লেয়ারকে (মোস্তাফিজুর রহমান) উগ্রবাদীদের কাছে মাথা নত করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাকে ভারত থেকে বের করে দিচ্ছিল... সোজা কথা, বের করে দিতে বলেছে। তো এখন আইসিসির যে টুর্নামেন্টটা, এটা তো ভারতেই হবে। আইসিসি আমাদেরকে যতই বলুক নিরাপত্তা আশঙ্কা নেই, আইসিসির নামে তো আলাদা কোনো দেশ নাই। যেই দেশে আমার একটা প্লেয়ার নিরাপত্তা পায় নাই, যেই দেশে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সরকারের একটা এক্সটেন্ডেড পার্ট, তারাই আমার প্লেয়ারকে উগ্রবাদীদের চাপে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বা অনিচ্ছুক হয়েছে, ব্যর্থ বা অনিচ্ছুক হয়েছে, সেই দেশেই খেলা হচ্ছে।’
নিরাপত্তা বিষয়ে আসিফ নজরুল জানান, ‘সেই দেশের পুলিশ, সিকিউরিটি এজেন্সিরই দায়িত্ব হবে ক্রিকেটারদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া। তো আমরা তাহলে ওই ঘটনার পরে কী এমন চেঞ্জ হয়েছে ভারতের যে আমরা ভাবতে পারব যে ভারতে আবার কোনো উগ্রবাদী আস্ফালন হবে না? বা ভারত আমাদেরকে, মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে পারে নাই তো কী হয়েছে? আমাদের ক্রিকেটারদের, আমাদের সাংবাদিকদের, আমাদের দর্শকদের সবাইকে নিরাপত্তা দিতে পারবে। এটা আমরা কিসের থেকে কনভিন্সড হবো?’
আইসিসির ব্যর্থ চেষ্টা নিয়ে আসিফ নজরুল বলে, ‘আমাদের এই বিষয়ে কনভিন্স করার জন্য আইসিসি কোনো চেষ্টা করেনি। আইসিসি আসল যে ঘটনা, সেটা বাদ দিয়ে তার স্ট্যান্ডার্ড যে সিকিউরিটি প্রসিডিউর সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছে। যেখান থেকে ঘটনাটা শুরু, সেই ঘটনা নিয়ে আইসিসি কোনো স্ট্যান্ড নেয় নাই ঠিকমতো। এমনকি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যে আমাদের কনভিন্স করার চেষ্টা করা যে যেই ঘটনাটা ঘটেছে মুস্তাফিজের ক্ষেত্রে এটা একটা আইসোলেটেড ঘটনা বা আমরা এটার জন্য সরি, আমরা এই ব্যবস্থা নিচ্ছি, তোমাদের দর্শক, তোমাদের সাংবাদিক, তোমাদের খেলোয়াড়দের জন্য কোনো রকম যোগাযোগের চেষ্টা করে নাই, কোনো রকম কনভিন্স করার চেষ্টা করে নাই।’
সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে অনড় থাকার পর তিনি বলেন, ‘ফলে আমাদের ডিসিশন পরিবর্তন হওয়ার কোনো রকম স্কোপ নাই। আমরা এখনো আশা করব, আমরা মনে করি আমরা আইসিসি থেকে সুবিচার পাইনি। আমরা এখনও আশা করব আইসিসি সুবিচার করবে। আমাদের যে বিশ্বকাপ খেলার যে অধিকার, যেটা শ্রীলঙ্কাতে আমাদের খেলার সুযোগ রয়েছে, এরকম বহু নজির পৃথিবীতে আছে যে অন্য একটা ভেন্যুতে সিকিউরিটি রিস্কের কারণে খেলা হচ্ছে।’
‘আমাদের এখানে জেনুইন সিকিউরিটি রিস্ক আছে। আমরা এখনও আশা ছাড়ি নাই। আমরা আশা করব আইসিসি আমাদের জেনুইন সিকিউরিটি রিস্কটা সুবিবেচনার সাথে নিয়ে আমাদেরকে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ করে দেবে বিশ্বকাপ। আমরা সেই আশাবাদ নিয়ে এখনো অপেক্ষা করছি। ধন্যবাদ।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার ইস্যুতে গতকাল বুধবার বিকেলে অনলাইন সভা ডেকেছিল আইসিসি। ওই সভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ ভারতের মাঠেই খেলতে হবে। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান জানানোর জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল আইসিসি। এই সময়ের মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্তে এখন আগামী মাসে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে নেমে এলো বলাই যায়।