বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসর শেষ হলো রাজশাহীর আধিপত্যের ছাপ রেখে। ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৭৪ রান তোলে রাজশাহী, জবাবে চট্টগ্রামের ইনিংস থেমে যায় মাত্র ১১১ রানে। এই জয়ে বিপিএলে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তুললো রাজশাহী। এর আগে ২০১৯-২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস নামেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
শিরোপা জিতলেও ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের শীর্ষে জায়গা করে নিতে পারেননি রাজশাহীর কোনো ক্রিকেটার। এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন সিলেট টাইটান্সের পারভেজ হোসেন ইমন। ১২ ম্যাচে ৩৯৫ রান করেছেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি।
রান সংগ্রাহকদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রংপুর রাইডার্সের তাওহীদ হৃদয়। ১১ ম্যাচে ৩৮২ রান করা এই ব্যাটারের নামের পাশে আছে একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি, সর্বোচ্চ রান ১০৯। রাজশাহীর তানজিদ হাসান তামিম ১৩ ম্যাচে ৩৫৬ রান করে আছেন তৃতীয় স্থানে। এক সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটির সঙ্গে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ১০০ রান। ঠিক তার পরেই আরেক রাজশাহী ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত—১৩ ম্যাচে ৩৫৫ রান। শান্তও একটি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটি করেছেন, সর্বোচ্চ ১০১ রান। পঞ্চম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক রংপুরের ডেভিড মালান, ৯ ম্যাচে ৩০০ রান, তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি এবং সর্বোচ্চ ৭৮ রান।
তবে বোলিং বিভাগে এবারের বিপিএল হয়েছে রেকর্ডের আসর। রানার্সআপ চট্টগ্রাম রয়্যালসের শরিফুল ইসলাম ১২ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছেন। ৯ রানে ৫ উইকেট তার সেরা বোলিং ফিগার, যা আগের আসরে তাসকিন আহমেদের ২৫ উইকেটের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। সিলেটের নাসুম আহমেদ ১২ ম্যাচে ১৮ উইকেট নিয়ে আছেন দ্বিতীয় স্থানে। তার সেরা বোলিং ৭ রানে ৫ উইকেট।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রাজশাহীর রিপন মন্ডল—৮ ম্যাচে ১৭ উইকেট, সেরা বোলিং ফিগার ১৩ রানে ৪ উইকেট। নোয়াখালীর হাসান মাহমুদ ১০ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে চতুর্থ, তার সেরা বোলিং ২৬ রানে ৪ উইকেট। একই সংখ্যক উইকেট নিয়েছেন রাজশাহীর বিনুরা ফার্নান্দো—১১ ম্যাচে ১৬ উইকেট। রংপুরের হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ১০ ম্যাচে খেলেছেন এবং নিয়েছেন ১৬ উইকেট। ১৫ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে পঞ্চম সেরা বোলার হয়েছেন চট্টগ্রামের মেহেদী হাসান ও আমের জামাল।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকেও ছিল বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত। এবারের বিপিএলের সেরা ব্যক্তিগত ইনিংস খেলেছেন তাওহীদ হৃদয়—নোয়াখালীর বিপক্ষে ১০৯ রান। সর্বোচ্চ ১৯টি ছক্কা মেরেছেন সিলেটের পারভেজ হোসেন ইমন ও রাজশাহীর তানজিদ হাসান তামিম। পুরো আসরে মোট চারটি সেঞ্চুরি হয়েছে—হাসান ইসাখিল, হৃদয়, নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম করেছেন একটি করে শতক।