নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘিরে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা যখন ঘনীভূত হচ্ছে, তখন উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ক্রিকেটের দুই পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে ইংল্যান্ডের আপত্তির খবরের পর এবার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দুই দলের এই অবস্থান বিশ্বকাপের ভেন্যু ও আয়োজনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার। এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
শুক্রবার এক বক্তব্যে মার্ক বাটলার বলেন, ‘গত ডিসেম্বর থেকে ভারতে শুরু হওয়া নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে অস্ট্রেলিয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।’ নাইন নেটওয়ার্ক টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বললেও অস্ট্রেলিয়া বিষয়টি কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না।
বাটলারের ভাষায়, ‘এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি ভাইরাস। তাই আমরা একে হালকাভাবে দেখছি না এবং সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছি।’
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে ভারত থেকে ফেরা যাত্রীদের জন্য বিমানবন্দরে আলাদা করে কড়াকড়ি আরোপের প্রয়োজন দেখা যায়নি। যদিও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যেই বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বাটলার জানান, অসুস্থ যাত্রীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় বিদ্যমান প্রোটকল পরিবর্তনের আপাতত কোনো প্রয়োজন নেই। তবে পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দ্রুতই এই ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।
এদিকে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো শীর্ষ দলগুলো যদি ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অনীহা প্রকাশ করে, তাহলে আইসিসির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টি। এরই মধ্যে ভেন্যু পরিবর্তন সম্ভব নয় জানিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আইসিসি। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাইলেও সেই প্রস্তাব নাকচ করা হয়।
তবে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে হয় কি না। পরিস্থিতির গতিপথের ওপর নির্ভর করেই আসন্ন দিনগুলোতে এই বিষয়ে আইসিসিকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।