দুই বছরের বেশি সময় পর গাজা উপত্যকায় আবারও মাঠে গড়াল সংগঠিত ফুটবল টুর্নামেন্ট। চারপাশে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, ভাঙা দেয়াল আর স্তূপ হয়ে থাকা ইট-পাথরের মাঝেই মুখোমুখি হয় জাবালিয়া ইয়ুথ ও আল-সাদাকা। প্রথম ম্যাচ ড্র হয়, এরপর বেইত হানুন ও আল-শুজাইয়ারের ম্যাচও সমতায় শেষ হয়। তবে ফলাফলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ফুটবলের ফিরে আসা।
গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকার ছোট পাঁচ-এ-সাইড পিচে খেলা চলাকালীন দর্শকেরা উচ্ছ্বাসে কেউ ভাঙা কংক্রিটের দেয়ালে উঠেন, কেউ ধ্বংসস্তূপের ফাঁক দিয়ে খেলা দেখার চেষ্টা করেন। ঢোলের তালে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
জাবালিয়া দলের ২১ বছর বয়সী খেলোয়াড় ইউসুফ জেনদিয়া, যার এলাকা ইসরায়েলি অভিযানে প্রায় জনশূন্য হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘সকাল বেলায় সবাই পানি আর রুটি খুঁজে বেড়ায়। জীবন এখানে অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু দিনের একটা সময় থাকে যখন সবাই ফুটবল খেলতে আসে তখন আমরা নিজেদের মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করি। তবে এমন আনন্দ সাময়িক বিষয়। মাঠে এসে অনেক সতীর্থকে খুঁজে পাইনি, কেউ নিহত, কেউ আহত, কেউ চিকিৎসার জন্য বাইরে। তাই আনন্দটাকে অসম্পূর্ণ বলা যায়।’
গাজার উপকূলবর্তী সরু এলাকায় ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস করছে অস্থায়ী তাঁবু বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে। এক সময়ের ৯ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ইয়ারমুক স্টেডিয়াম ধ্বংস হয়ে যায়; সেখানে সাদা তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো।
বেইত হানুনের ৩১ বছর বয়সী খেলোয়াড় আমজাদ আবু আওদা বলেন, ‘মাঠে নামার মধ্য দিয়ে আমরা একটি বার্তা দিতে চাই। যত ধ্বংস আর যুদ্ধই হোক, জীবন ও খেলা চলতেই থাকবে।’
ফুটবল যেন এই ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরে কিছুক্ষণ হলেও আনন্দ ও স্বাভাবিকতার ছোঁয়া ফিরিয়ে আনছে, এটাই বিউটিফুল শো অন দ্যা আর্থ ফুটবলের সবচেয়ে বড় শক্তি।