সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও বার্ষিক পরিচালন ব্যয়ের অর্থের জোগান দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ইস্যু করা হয় ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ড। সহজভাবে বললে, এসব সিকিউরিটিজ কিনে আপনি সরকারকে টাকা ধার দিচ্ছেন। আর এ কারণেই বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ট্রেজারি বিল ও বন্ডকে বিবেচনা করা হয়।
ট্রেজারি বিল স্বল্পমেয়াদি—৯১, ১৮২ ও ৩৬৪ দিনের। অন্যদিকে ট্রেজারি বন্ডের মেয়াদ দুই থেকে ২০ বছর পর্যন্ত। বিল হলো জিরো-কুপন ইনস্ট্রুমেন্ট; মেয়াদ শেষে মূল অর্থের সঙ্গে রিটার্ন পাওয়া যায়। আর বন্ডে সাধারণত ছয় মাস পরপর কুপন ইন্টারেস্ট দেওয়া হয় এবং মেয়াদ শেষে ফেরত দেওয়া হয় মূলধন।
ট্রেজারি বিল এবং বন্ডের একটা বড় পার্থক্য হচ্ছে এগুলো ট্রেডেবল। অর্থাৎ মেয়াদ পূর্তির আগেও সেকেন্ডারি মার্কেটে বিক্রি করা যায়। তবে তখন লাভ বা ক্ষতি নির্ভর করবে বাজার পরিস্থিতির ওপর।
ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর জন্য রয়েছে ব্যাংকের মাধ্যমে অংশ নেওয়ার সুযোগ। ব্যাংকের মাধ্যমে বিপিআইডি খুলে অকশনে অংশ নেওয়া যায়। আর বন্ড কেনার ক্ষেত্রে ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্ট বা বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করা সম্ভব।
তবে সরকারি সিকিউরিটিজ হলেও এগুলো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। ক্রেডিট রিস্ক তুলনামূলকভাবে খুব কম হলেও রয়েছে মার্কেট রিস্ক, লিকুইডিটি রিস্ক এবং ইন্টারেস্ট রেট রিস্ক।
ইন্টারেস্ট রেট যদি বাড়ে, দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের দাম কমতে পারে। আবার ইন্টারেস্ট রেট কমলে সেই বন্ডের দাম বাড়তে পারে। তাই বিনিয়োগের সময় মেয়াদ এবং ভবিষ্যতের সুদের হার—দুটিই বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
যাদের স্বল্পমেয়াদে অর্থ প্রয়োজন, তাদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারি বিল বিবেচনা করা যেতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনা থাকলে দীর্ঘমেয়াদি বন্ড তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় হতে পারে।
তবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের প্রয়োজন, বিনিয়োগের সময়সীমা, ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য রিটার্ন বিবেচনা করা জরুরি। আর শরিয়াহ-সম্মত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের বাইরে ইসলামিক সরকারি বিনিয়োগ উপকরণের সুযোগও রয়েছে।
অর্থাৎ, ট্রেজারি বিল ও বন্ড শুধু সরকারের অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম নয়—সঠিক ধারণা ও পরিকল্পনা থাকলে এটি বিনিয়োগকারীর জন্যও হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিক্সড ইনকাম ইনস্ট্রুমেন্ট।