নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক বসতে যাচ্ছে সরকার। রোববার (৪ জানুয়ারি) বৈঠক করবেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান। পাশাপাশি সরকারের কোনও করণীয় থাকলে তা যথাযথভাবে পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
এদিন চলতি মাসের জন্য এলপি গ্যাসের নতুন দর ঘোষণা করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, সৌদি আরামকো কর্তৃক ঘোষিত জানুয়ারি, ২০২৬ মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী চলতি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের আদেশ রোববার ঘোষণা করা হবে।
ওইদিন বিকেল ৩টায় রমনার ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) শহিদ প্রকৌশলী ভবনের (৬ষ্ঠ তলা) কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ দর ঘোষণা করা হবে। এছাড়াও এলপিজির দর ঘোষণা সংক্রান্ত আদেশ কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিমাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু সেই দাম থেকে সব সময় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে প্রতিটি ১২ কেজির এলপিজির সিলিন্ডার বিক্রি হয়। এখন সেই দাম বাড়তে বাড়তে ৮০০ থেকে এক হাজারে ঠেকেছে। তাও কোনও কোনও এলাকায় এলপিজি মিলছে না। এতে করে গ্রাহক চরম বিপাকে পড়েছে।
গত সপ্তাহের শেষ দিন হুট করে বাজারে এলপিজির ঘাটতি তৈরি হয়। গত বুধবারও ১২ কেজির এক সিলিন্ডার এলপিজি ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারিত দামের জায়গায় ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গ্রাহক এই দামকে তাদের জন্য স্বাভাবিক বলছেন। কেননা বিইআরসি গত ডিসেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয় ১ হাজার ২০০ টাকা।
কিন্তু ওই মাসে কখনও কোনও এলপিজির গ্রাহক খুচরা দোকান থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকার নিচে এলপিজি কিনতে পারনেনি। সেই হিসেবে গত বুধবার প্রতি সিলিন্ডারে প্রচলিত দামের তুলনায় ৫০ টাকা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার অস্বাভাবিক হারে দাম বেড়ে যায়।
গত দুদিন খুচরা বিক্রেতাদের কাছে গিয়ে কেউ ১ হাজার ৮০০ টাকার নিচে এললপিজি কিনতে পারেননি। কোনও কোনও দোকানে এই দাম হাকা হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা।
এমন পরিস্থিতিতে শনিবার নিজ বাসভবনে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবসহ বেশ কয়েকজন সচিব, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, বিপিসি চেয়ারম্যানসহ পদস্থ কর্মকর্তাদের ডেকেছিলেন। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।