মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র গত দুই দশকের মধ্যে তাদের বৃহত্তম সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে, যেখানে দুটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপসহ শত শত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে না পৌঁছালে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে ইরানে হামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা অঞ্চলটিকে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে বলে বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে তেহরান। তবে কি সত্যিই ট্রাম্প এত বড় ঝুঁকি নেবেন, নাকি এই সামরিক উপস্থিতি কেবলই কূটনীতির টেবিলে চাপ প্রয়োগের জন্য।
ট্রাম্প মঙ্গলবার ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করলেও কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বোর্ড অব পিসের উদ্বোধনী সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানকে একটি চুক্তি করতে হবে, নাহলে তাদের কপালে ‘সত্যিই খারাপ কিছু’ ঘটবে। এ সময় আগামী ১০ দিনের মধ্যে ফলাফল জানা যাবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন, ইরানে হামলা করা হবে কিনা তা জানতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
এর আগে গত বছর ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়বে কিনা তা জানাতে দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ঘোষণার পরদিনই ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা করতে ২১ জুন অপারেশন মিডনাইট হ্যামার পরিচালনা করে মার্কিন বাহিনী। ফলে ট্রাম্প আসলেই ইরানে হামলা করবেন কিনা তা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।
জানা যায়, ট্রাম্প এখন পর্যন্ত দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মতামতের ওপর নির্ভর করছে। পরমাণু আলোচনায় ইরান ইচ্ছাকৃত সময়ক্ষেপণ করছে কিনা তা জানাবেন এই দুই উপদেষ্টা। তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প। যদিও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানে হামলা করে কোনো দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি এই হামলা আঞ্চলিক সংঘাতের বড় সূচনা করতে পারে।
ইরানে হামলার জন্য আরব সাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ভূমধ্যসাগরে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করেছে। এছাড়া পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে মোতায়েন করা যুদ্ধজাহাজ নিয়ে প্রায় ১৮টি যুদ্ধজাহাজ এখন ইরানকে ঘিরে মোতায়েন রয়েছে। এসবের পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড তিনশতাধিক যুদ্ধবিমান জড়ো করেছে। যার মধ্যে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এফ-২২ র্যাপ্টর, এফ-৩৫, এফ-১৫, এফ-১৬’র মতো যুদ্ধবিমান। এ ছাড়া বিভিন্ন নজরদারি বিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরান বলছে তারা মার্কিন হামলা মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যদিও তেহরান বলছে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান চায় তারা। তবে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাটিগুলোতে আক্রমণ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।