ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের একটি বিবৃতি প্রচার করে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো রোববার (১ মার্চ) আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য আগেই জানিয়েছিলেন, ইরানের বিভিন্ন জায়গায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন।
কাউন্সিলের ওই বিবৃতিতে ৮৬ বছর বয়সী খামেনি কীভাবে মারা গেলেন এবং কে তার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে সেসব নিয়ে কিছু বলা হয়নি। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে কে থাকবেন তা নির্ধারণ করেন বিশেষজ্ঞমণ্ডলী বা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নামের ৮৮ জন ধর্মীয় নেতার একটি পরিষদ।
আরও পড়ুন: খামেনি নিহত, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন দ্বিতীয় ব্যক্তি। ১৯৮৯ সাল থেকে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আলী খামেনির শাসনামলে ইরানে মোট সাতজন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছয় সন্তানের জনক।
এই মণ্ডলীর সদস্যদের নির্বাচন করা হয় প্রতি আট বছর অন্তর। কিন্তু কারা গোষ্ঠীর সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন তা নির্ভর করে দেশটির গার্ডিয়ান কাউন্সিল নামে একটি কমিটির অনুমোদনের ওপর। আর এই গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচন করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফও ছিলেন। জাতীয় পুলিশ ও নৈতিকতা পুলিশের (মোরালিটি পুলিশ) ওপরও তার কর্তৃত্ব ছিল। এ ছাড়া দেশের সব বড় বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার সম্মতি দরকার ছিল। এমনকি ইরান পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী হবে কিনা অথবা জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থাকে সহযোগিতা করবে কিনা—এসবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও তিনি দিতেন।
খামেনি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণ করতেন, যারা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। এ ছাড়া এর স্বেচ্ছাসেবী শাখা বাসিজ রেজিস্ট্যান্স ফোর্সও তার নিয়ন্ত্রণে ছিল, যা মূলত ইরানে যেকোনো ধরনের ভিন্নমত বা বিক্ষোভ দমনে ব্যবহার করা হয়।
আরও পড়ুন: খামেনি যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ হয়ে ওঠেন
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও মারা গেছেন। এ ছাড়া ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে যোগসূত্র থাকা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খামেনির একজন পূত্রবধুও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
অন্যদিকে বিবিসির মিডিয়া পার্টনার সিবিএস নিউজ গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রায় ৪০ জন ইরানি কর্মকর্তা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। তবে এটা পরিস্কার নয় যে ওই কর্মকর্তারা একাধিক জায়গায় নাকি একটি জায়গাতেই অবস্থান করছিলেন। খামেনি ছাড়াও ইরানের বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হামলায় মারা গেছেন বলে তারা দাবি করেছে।
ইরানে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালায়। এরপর পাল্টা জবাব দেয় ইরানও। মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, দোহা, বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও কমান্ডারকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষ নিহত ও অন্তত ৭০০ জন আহত হয়েছে।