রোববার (১ মার্চ) তেহরানে এখন ভোর। সূর্য ওঠার আগে থেকেই কয়েক ঘণ্টা ধরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের রাজধানী শহরটি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বোর্মাবর্ষণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, যদিও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
ঘণ্টা খানেক আগে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে, যেখানে দেখা যায়, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে এবং সেগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।
ওই পোস্টে বলা হয়েছে, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমান্ড এখন দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সবশেষ বলেছে, ‘ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানজুড়ে ইরানি সন্ত্রাসী শাসনের আওতায় থাকা ৩০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, শাসন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন টার্গেট ও সামরিক কমান্ড সেন্টার।’
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। তিনি স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে তার কার্যালয়ে মারা গেছেন। কান্নাভেজা কণ্ঠে দেওয়া এক ঘোষণায় রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপক খামেনির মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেন, দেশটি ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও সাত দিনের সরকারি ছুটি পালন করবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সংবাদ চ্যানেল আইআরআইএনএনে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের আবহে খামেনির বিভিন্ন ছবি প্রচার করা হচ্ছে। পর্দার ওপরের বাঁ দিকের কোণে একটি কালো ব্যানারও দেখানো হচ্ছে। এর আগে উপস্থাপক ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের একটি বিবৃতি পাঠ করেন, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় এবং তার মৃত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, খামেনির ‘শাহাদাত’ হবে ‘নিপীড়কদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে এক অভ্যুত্থানের সূচনা’।
খামেনির মৃত্যুর সংবাদ ঘোষণার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘অধিকৃত অঞ্চল ও মার্কিন সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক অভিযান আর কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হবে।’
উল্লেখ্য, ইরানে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালায়। এরপর পাল্টা জবাব দেয় ইরানও। মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, দোহা, বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও কমান্ডারকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষ নিহত ও অন্তত ৭০০ জন আহত হয়েছে।