ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যের কার্বি আংলং এলাকায় একটি সুখোই–৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিমানটি আসামে প্রশিক্ষণ মিশনে ছিল এবং উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানিয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনী। খবর: এনডিটিভি।
ভারতীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, নিহত দুই পাইলট হলেন স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুরাগকর। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বিমানবাহিনী জানায়, ‘আইএএফের সব সদস্য নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে এবং এই শোকের সময়ে তাদের পাশে রয়েছে।’
জানা গেছে, সুখোই–৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানটি প্রশিক্ষণ মিশনে ছিল। এটি আসামের জোরহাট বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই নিখোঁজ হয়ে যায়। বিমানঘাঁটি থেকে দুর্ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটে রাশিয়ার তৈরি এই যুদ্ধবিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জানা যায়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি পাহাড় থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান তারা। একই সঙ্গে সেখানে আগুনের গোলাও দেখা যায়।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই দুর্ঘটনায় দুই পাইলটের মৃত্যুকে ‘মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, ‘তাদের সাহস এবং দেশের প্রতি সেবা জাতি সবসময় গর্ব ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
তিনি আরও বলেন, এই শোকের মুহূর্তে পুরো জাতি নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে।
এনডিটিভি বলছে, সুখোই–৩০ এমকেআই একটি দুই আসনের দীর্ঘ-পাল্লার যুদ্ধবিমান। এটি রাশিয়ার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সুখোই তৈরি করেছে। বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড (এইচএএল) লাইসেন্সের আওতায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য এই বিমান তৈরি করে।
১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মতো এই যুদ্ধবিমানটি ভারতীয় বিমানবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে ২৬০টিরও বেশি সুখোই–৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের জুন মাসে মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায় একটি সুখোই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে গোয়ালিয়র বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর আরেকটি সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়।