ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কস্তা বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলায় এখন পর্যন্ত একমাত্র লাভবান দেশ হচ্ছে রাশিয়া।’ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরে যাওয়ায় মস্কো লাভবান হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ইইউ রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে ব্রাসেলসে দেওয়া এক বক্তব্যে কস্তা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে একজনই বিজয়ী, রাশিয়া। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে রাশিয়া অতিরিক্ত অর্থ পাচ্ছে, যা চলমান ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যয় করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য যে সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করা যেত, তার একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।’
যুদ্ধের ১১তম দিনে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, এ কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে ও বিভিন্ন শিল্প খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ সময় অ্যান্টোনিও কস্তা সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘বোমা দিয়ে স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায় না। এগুলো রক্ষার একমাত্র পথ হলো আন্তর্জাতিক আইন। সংঘাত আরও বাড়লে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপসহ পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সোমবার ফোনালাপ হয়েছে, যেখানে ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেন তারা। ক্রেমলিন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সবাই আগ্রহী থাকলেও পরের বৈঠকের সময় ও স্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি।
রাশিয়া ও ইউক্রেন গত বছর তুরস্কে তিন দফা আলোচনা করেছিল এবং চলতি বছরে আবুধাবি ও জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আরও কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। তবে রাশিয়ার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চল পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার দাবিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দুই পক্ষ এখনও একমত হতে পারেনি।
একই সময় ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু তেল উৎপাদনকারী দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথাও বিবেচনা করছে বলে জানা যায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে।