হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপের কয়েকটি প্রধান দেশ। তারা জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়ুস স্পষ্টভাবে বলেন, ‘এটা আমাদের যুদ্ধ নয়, আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে ইউরোপের কয়েকটি ফ্রিগেট পাঠিয়ে কী হবে, যা শক্তিশালী মার্কিন নৌবাহিনী একাই সামলাতে পারছে না?’
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস–এর কার্যালয়ও জানায়, ন্যাটো মূলত সদস্য দেশগুলোর ভূখণ্ড রক্ষার জোট এবং এ ধরনের অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যান্ডেট নেই।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, তার দেশ ‘বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না’। তবে তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হরমুজ প্রণালি আবার চালু করা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে এবং যে কোনো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্মতির ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।
ইউরোপীয় নেতারা বলছেন, সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক উদ্যোগই এই সংকটের সমাধানে বেশি কার্যকর হতে পারে। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তাজানি বলেন, ‘কূটনীতিক সমাধানই প্রাধান্য পাওয়া উচিত।’
এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের তেহরান, শিরাজ ও তাবরিজ শহরে অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র নাদাভ শোশানি বলেন, আগামী তিন সপ্তাহের জন্য বিস্তৃত সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব উপসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে ড্রোন হামলার পর আগুন লাগায় তেল লোডিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তাদের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যানের অর্থ এই নয় যে ইরান যুদ্ধ চায়। তবে এই সংঘাত এমনভাবে শেষ হতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের আগ্রাসনের কথা ভাবতে না পারে।