দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। শনিবার (২১ মার্চ) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বোঝা যাচ্ছে যে, হামলাটি ব্যর্থ হয়েছে। ব্রিটিশ ঘাঁটিসমূহ যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি হারে ব্যবহার করতে পারবে যুক্তরাজ্যের এমন ঘোষণার আগেই ওই হামলাটি করা হয়। তবে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠিক কখন ছোড়া হয়েছিল তা জানা যায়নি।
এদিকে, ইরান অভিযোগ করেছে যে তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রটি আবারও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে দাবি, হামলায় কোনো ধরনের তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েনি এবং কেন্দ্রের আশপাশে বসবাসকারী বাসিন্দারা ঝুঁকিমুক্ত রয়েছেন।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধ গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে, তারপরও পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে না যে তারা তাদের আগ্রাসন বন্ধ করতে প্রস্তুত।’
এদিকে, সামরিক অভিযানের ফলে যেন পরমাণবিক দুর্ঘটনা ঝুঁকি তৈরি না হয়, সেজন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের পরমাণবিক সংস্থার প্রধান।
এর আগে ইরানের কিছু তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মূলত ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে বিরূপ প্রভাব তৈরি হয়েছে তা নিয়ন্ত্রণে আনতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বিবিসির প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদদাতা জনাথন বেইল বলন, ‘দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত ব্রিটিশ সার্বভৌম ঘাঁটির দিকে দুইটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর সঠিক বলে জানতে পেরেছে বিবিসি। তবে, দুইটি ক্ষেপণাস্ত্রের কোনোটিই ঘাঁটিতে পৌঁছাতে পারেনি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মারার খবরটি প্রকাশ করে। পরে বিবিসি বিভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বলে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য ঘাঁটির দিকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ওই অঞ্চলজুড়ে ইরানের এই বেপরোয়া হামলা ব্রিটিশ স্বার্থ এবং ব্রিটিশ মিত্রদের জন্য একটি হুমকি।
এদিকে, যুক্তরাজ্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দিয়েগো গার্সিয়া থেকে তাদের প্রতিরক্ষামূলক বোমাবর্ষণ অভিযান পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। ভারত মহাসাগরের এই ব্রিটিশ সার্বভৌম ঘাঁটি থেকে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালিয়েছে কীনা, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
তবে, যুক্তরাষ্ট্র গ্লস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে হামলা চালিয়েছে। সাইপ্রাসের আরএএফ আক্রোতিরি থেকে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দেয়নি।
দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটির গুরুত্ব কী?
দিয়েগো গার্সিয়া ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম দ্বীপ এবং এখানে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত।
এই মাসের শুরুর দিকে, ব্রিটিশ স্বার্থ বা জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এমন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে এ ঘাঁটি এবং গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ব্যবহারের অনুমতি দেয় যুক্তরাজ্য।
গত শুক্রবার, হরমুজ প্রণালিকে লক্ষ করে অবস্থান নেওয়া ইরানি ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটিসমূহকে ব্যবহারের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাজ্য।
দিয়েগো গার্সিয়া সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের জন্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, এবং এটি নিকটতম ভূখণ্ড থেকে প্রায় এক হাজার মাইল মানে ১ হাজার ৬০৯ কিমি দূরে অবস্থিত। এই দুর্গম দ্বীপটি নিয়ে যুক্তরাজ্য এবং মরিশাসের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে একটি আঞ্চলিক বিরোধ চলছে।
গত মে মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া এক চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য বছরে গড়ে ১০১ মিলিয়ন পাউন্ড ফি দিয়ে ৯৯ বছরের জন্য দিয়েগো গার্সিয়া পুনরায় ইজারা নেবে। নাইন-ইলেভেনের পর আফগানিস্তানে হামলা চালানর জন্য এই যৌথ সামরিক ঘাঁটি মার্কিন বি-টু বম্বারে জ্বালানি ভরার কাজে ব্যবহার হত।