উড্ডয়নের সময় ১২৫ জন সেনা ও ক্রু সদস্য বহনকারী কলম্বিয়ার একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ৬৬ জন নিহত ও আরও অনেকেই আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
সি-১৩০ হারকিউলিস বিমানটি ইকুয়েডর ও পেরুর দক্ষিণ সীমান্তের কাছাকাছি পুয়ের্তো লেগুইসামো থেকে স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিধ্বস্ত হয়। এতে জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ জঙ্গলের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।
একটি সামরিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় ৫৮ জন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বিমানবাহিনীর ছয়জন সদস্য ও দুজন পুলিশ সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্ঘটনায় হতাহতের হালনাগাদ সংখ্যা প্রকাশ করার কিছুক্ষণ আগে স্থানীয় সরকার বিষয়ক সচিব কার্লোস ক্লারোস আরসিএন টেলিভিশনকে জানান, দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আহত আরও বহু মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছেন বলেও জানান তিনি।
যে সীমান্ত এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখানে কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক সামরিক তৎপরতা চলছে। মাদক পাচারকারী চক্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দমনে কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া এএফপির ছবিতে দেখা গেছে, গাছের ওপর দিয়ে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠছে। আর ভেঙে পড়া এফএসি ১০১৬ বিমানের চারপাশে স্থানীয় লোকজন ঘোরাফেরা করছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ করা খুবই জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি দেশের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা। আমাদের প্রার্থনা যেন কিছুটা হলেও সান্ত্বনা বয়ে আনে।’
জেনারেল কার্লোস ফার্নান্দো সিলভা রুয়েদা জানান, বিমানে ১১৪ জন সেনা সদস্য ও ১১ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তারা পুয়ের্তো লেগুইসামো থেকে কাছাকাছি একটি আমাজন ঘাঁটির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে পুতুমায়ো অঞ্চলের গভর্নর জন গ্যাব্রিয়েল মলিনা এক ফেসবুক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘বিমানবন্দরটি ছোট এবং বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে,’ যার কারণে নিহতদের মরদেহ ও আহতদের সরিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে।
এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। কৃষক নোয়ে মতা বলেন, ‘আমি আকাশে একটি বিস্ফোরণের শব্দ অনুভব করি এবং ওপরে তাকাই, দেখলাম বিমানটি আমার জমির ওপর বাড়ির খুব কাছ দিয়ে উড়ে আসছে।’
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো একটি ফুটেজ শেয়ার করেছেন, যেখানে বিমানটিকে নিচে আছড়ে পড়ার আগে উচ্চতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে। তিনি এক্সে এই দুর্ঘটনাকে ‘ভয়াবহ একটি ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং কলম্বিয়ার সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। যদিও তিনি নির্দিষ্টভাবে এই দুর্ঘটনার সঙ্গে বিমানের অবস্থার কোনো যোগসূত্র উল্লেখ করেননি।
এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকায় লকহিড মার্টিন নির্মিত চার-ইঞ্জিন বিশিষ্ট টার্বোপ্রপ সি-১৩০ হারকিউলিস বিমানের এটি দ্বিতীয় দুর্ঘটনা। ফেব্রুয়ারির ২৭ তারিখে লা পাজের কাছে অবতরণের সময় ব্যাংকনোট বহনকারী একটি বলিভিয়ার সামরিক কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়, এতে অন্তত ২৪ জন নিহত হন। অস্থায়ী বা অপ্রস্তুত রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের সক্ষমতার জন্য সুপরিচিত বিমানটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনী ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে থাকে।