যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ মার্চ) বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসার আশা করছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন সেখানেই ১৫ দফা চুক্তির বিষয়ে জবাব পাওয়ার প্রত্যাশা করছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আগেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, এই সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে তাদের বৈঠক হতে পারে। এবার মিয়ামিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কথা বলছে।
স্টিভ উইটকফ বলেন, ‘আমরা মনে করি এই সপ্তাহে বৈঠক হবে, আমরা অবশ্যই এ বিষয়ে আশাবাদী।’
ট্রাম্প একটি শান্তি চুক্তি চান উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘জাহাজ চলাচল করছে, এটা খুবই ভালো লক্ষণ। আমাদের কাছে ১৫ দফার একটি চুক্তি রয়েছে, যা ইরান কিছুদিন ধরে বিবেচনা করছে। আমরা তাদের কাছ থেকে একটি জবাব আশা করছি।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যগুলো স্পষ্ট এবং ‘আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী যে খুব শিগগিরই আমরা সেগুলো অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্থল সেনা ছাড়াই তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। আর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান কতদিন চলবে—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা মাস নয়, সপ্তাহের কথা বলছি।’
এদিকে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে, অন্তত দুজন সেনা ‘খুব গুরুতরভাবে আহত’ হয়েছেন এবং হামলার সময় তারা ঘাঁটির একটি ভবনের ভেতরে ছিলেন। তবে এর আগে বিবিসির মিডিয়া পার্টনার সিবিএস নিউজ একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে ১০ জন আহতের তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান সফলভাবে এগোচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানকে চূর্ণ করছে’। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দেশটির বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তিনি বলেছেন, ইরানের দুটি বড় ইস্পাত কারখানা, একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বেসামরিক পরমাণু স্থাপনায় হামলা হয়েছে এবং তার দেশ এর যথাযথ জবাব দেবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল দাবি করছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে এই হামলা চালিয়েছে এবং এই আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কূটনীতির জন্য বাড়ানো সময়সীমার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
এ ছাড়া উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ নতুন করে হামলা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটি ইরান থেকে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরোধ কিংবা ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।
এদিকে বিবিসিকে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, তেহরানে রাতভর শহরের বিভিন্ন জায়গায় হামলা হয়েছে। ইরানের গণমাধ্যমগুলোও জানিয়েছে, রাজধানীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছিল এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
ইরান ও রাশিয়ার আলোচনা
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ইরান সংকটের একটি কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দুই মন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে জটিল সামরিক ও রাজনৈতিক সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন, যা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অযৌক্তিক আগ্রাসনের ফলে ইরানে বিস্ফোরিত হয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তারা এই সংঘাতকে ‘আন্তর্জাতিক আইনসম্মত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা এবং অঞ্চলের সব দেশের বৈধ স্বার্থ বিবেচনায় রাখার’ বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লাভরভ ইরানে রাশিয়ার পাঠানো সর্বশেষ মানবিক সহায়তার চালানের বিস্তারিতও তুলে ধরেন।
রাশিয়া ও ইরান একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যাতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছ। তবে এতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই।