ইরানে নরক নামিয়ে আনার হুমকি-ধমকি দিয়ে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কিছু সময় আগে অন্তত ২ সপ্তাহের জন্য পরিকল্পিত ভয়াবহ হামলা ও বোমা বর্ষণ স্থগিত করতে রাজি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে যুদ্ধবিরতির পেছনে একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরান সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে রাখলে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে, নাহলে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হবে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা অনুযায়ী, পরবর্তী ১৪ দিন উভয় পক্ষ একটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি পালন করবে। তবে এই স্থগিতাদেশের প্রধান শর্ত হলো—ইরানকে অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে ‘হরমুজ প্রণালি’ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। ট্রাম্প বলেন, ‘আজ রাতে ইরানের ওপর যে বিধ্বংসী শক্তি প্রয়োগ করার কথা ছিল, পাকিস্তান সরকারের অনুরোধে তা আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই তাদের অধিকাংশ সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির পথে অনেক দূর এগিয়েছে। তিনি আরও জানান, ইরানের পক্ষ থেকে একটি ১০ দফার প্রস্তাব পাওয়া গিয়েছে, যেটিকে আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। দুই দেশের মধ্যে অতীতে অমিল থাকা প্রায় সব পয়েন্টে সমঝোতা হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘পরবর্তী দুই সপ্তাহ এই চুক্তি চূড়ান্ত ও কার্যকর করার জন্য সময় দেবে।’
এদিকে ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযানের লক্ষ্যগুলোর বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার আগে, ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত খারগ দ্বীপে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ আজ এই তথ্য জানিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দেওয়া মোট ১১ ঘণ্টার বিশেষ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধে ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত বিধ্বংসী হামলা ২ সপ্তাহের জন্য স্থগিতে রাজি হয়েছি।