ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ব্যাপক ওঠানামাকে কাজে লাগিয়ে বছরের প্রথম তিন মাসেই নিজেদের মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে নিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানি বিপি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এই জ্বালানি জায়ান্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা হয়েছে ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।
বিপির বিবৃতিতে বলা হয়, এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি তাদের তেল বাণিজ্যের ‘ব্যতিক্রমী’ সফলতার প্রতিফলন।
সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাধারণত বাজারের তেলের দামের বড় ধরনের পরিবর্তন বা অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা লাভবান হন, যদি তারা দামের গতিপ্রকৃতি সঠিকভাবে অনুমান করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বিপির ব্যবসায়ীরা সফল হয়েছেন। পাশাপাশি তেল শোধন ব্যবসায় বেশি লাভ হওয়া এবং তেল-গ্যাস পরিবহন ও মজুত করার ব্যবসায় ভালো করাও এই বিশাল মুনাফায় বড় ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিষ্ঠানটির এই অভাবনীয় সাফল্যের খবরে লন্ডনের শেয়ারবাজারে বিপির শেয়ারের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৫ দশমিক ৮৮ পাউন্ডে (৮ ডলার) ঠেকেছে।
চলতি মাসের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়া বিপির প্রথম নারী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেগ ও’নিল বলেন, নির্ভরযোগ্য উৎপাদন বজায় রাখতে তারা ‘নিরলসভাবে কাজ’ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য বিপর্যয় কমিয়ে আনতে আমরা গ্রাহক ও সরকারগুলোর সঙ্গে কাজ করছি।’
মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে বিশ্ববাজারে তেলের বেঞ্চমার্ক দর ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭৩ ডলার। আর বছরের শুরুতে এই দাম ছিল ৬০ ডলার।
এদিকে ইরান যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সংকট থেকে মুনাফা করা কোম্পানিগুলোর ওপর উইন্ডফল ট্যাক্স (অপ্রত্যাশিত মুনাফার ওপর কর) আরোপের দাবি জানিয়েছে এন্ড ফুয়েল পোভার্টি কোয়ালিশন নামের এক সংগঠন।
এর সমন্বয়ক সাইমন ফ্রান্সিস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই আকাশচুম্বী মুনাফা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, সংঘাতের কারণে যখন তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ে, তখন সাধারণ মানুষ চরম মূল্য দিলেও জ্বালানি কোম্পানিগুলো শুধু পকেট ভারী করে।’