নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে আবারও একটি পোস্ট দিয়ে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সম্পাদনা করা একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যা দেখতে অনেকটা ‘মেন ইন ব্ল্যাক’ ও ‘র্যাম্বো’ সিনেমার সংমিশ্রণ।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কালো স্যুট ও চোখে সানগ্লাস পরা ট্রাম্প হাতে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তার পেছনে মরুভূমি ও পাহাড়ের পটভূমিতে বিস্ফোরণের দৃশ্য এবং মুখে এক চিলতে বাঁকা হাসি।
ছবির ক্যাপশনে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান নিজেদের শুধরাতে পারছে না। তারা জানে না, কীভাবে একটি পরমাণু-মুক্ত চুক্তি সই করতে হয়। তাদের শিগগিরই বুদ্ধিমান হওয়া উচিত! আর ভালোমানুষি নয়!’
এনডিটিভি বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এবারের হুমকি আগেরগুলোর চেয়ে কিছুটা সংযত। এর আগে তিনি ইরানকে ‘পাগল’ বলে গালি দেওয়া থেকে শুরু করে তাদের সাত হাজার বছরের সভ্যতাকে ‘মুছে ফেলার’ হুমকি কিংবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য চরম আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেছিলেন।
এবারের এই পোস্ট মূলত শান্তি আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্রমবর্ধমান হতাশাকেই সামনে আনছে।
নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ ও ইউরেনিয়াম মজুত ত্যাগে মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
ইরান বলছে, এই কর্মসূচি কেবল বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য। কিন্তু ওয়াশিংটনের দাবি, এর মাধ্যমে তারা পারমাণবিক বোমা তৈরি করবে। তেহরানের এই অনড় অবস্থানে ট্রাম্প এখন কিছুটা কোণঠাসা।
এপ্রিলের শুরুতে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ‘অবৈধ নিষেধাজ্ঞা, সামরিক হুমকি বা বলপ্রয়োগের’ ছায়ায় তারা কোনো আলোচনায় বসবে না।
ক্ষুব্ধ ট্রাম্প এর জবাবে বলেছিলেন, ‘স্বাভাবিক মানুষ হলে চুক্তি করত। বুদ্ধিমান মানুষ হলে চুক্তি করত। তারা যদি বুদ্ধিমান হতো, তাহলে অবশ্যই চুক্তি করত।’
পাল্টা প্রস্তাবে ইরান জানিয়েছে, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে, তবে আরও পরে। তার আগে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নিতে হবে।