পাকিস্তান মারফত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ১৪ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়, তা বন্ধে ওয়াশিংটনের দেওয়া আগের ৯ দফার পরিকল্পনার জবাবে এই প্রস্তাব দিল তেহরান।
রোববার (৩ মে) ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সামরিক হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণের শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র দুই মাসের অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব দিলেও ইরান জোর দিয়ে বলেছে, বিষয়টি ৩০ দিনের মধ্যে সমাধান করতে হবে এবং আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করা।
ইরানের ১৪ দফার পরিকল্পনায় যা আছে
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, এই প্রস্তাবিত সমঝোতা পরিকল্পনায় লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে সামরিক অভিযান বন্ধ করা, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি পরিচালনায় নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।
প্রস্তাবে ইরান দাবি করেছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফেরতের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত দুই মাসের অস্ত্রবিরতির বদলে ইরান ৩০ দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধানের কথা জানিয়েছে।
তেহরানে কূটনীতিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, ‘বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। তাদেরই বেছে নিতে হবে, তারা কূটনীতির পথে হাঁটবে নাকি সংঘাতের পথ বজায় রাখবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যা চায়
>যুক্তরাষ্ট্র দুই মাসের অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। ইরান চায়, ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি।
> যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ভেঙে ফেলা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধের দাবি জানিয়েছে। ইরান আগে থেকেই সমৃদ্ধকরণের অধিকারের বিষয়ে অনড় অবস্থানে আছে। তবে বিস্তারিত পরিবর্তনের বিষয়টি পরবর্তী ধাপের জন্য রাখা হয়েছে।
> হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র চায় অবাধ প্রবেশাধিকার। ইরান সেখানে একটি সংশোধিত আঞ্চলিক কাঠামো এবং অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
> যুক্তরাষ্ট্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করতে চায়। ইরান নিজের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
> যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব দিয়েছে। ইরান সব নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
এছাড়া ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের হামলা হবে না, চুক্তিতে এমন দৃঢ় নিশ্চয়তা চায় তেহরান।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস