ইরানের ১৪ দফার নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যেই রোববার (৩ মে) একজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতি বাঁচাতে জব্দ করা অর্থ ফেরত পাওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারই এখন তেহরানের প্রধান অগ্রাধিকার।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনা ও থমকে যাওয়া আলোচনার মধ্যে ইরান ওয়াশিংটনের একটি প্রস্তাবের জবাবে ১৪ দফার পাল্টা প্রস্তাব জমা দিয়েছে বলে এর আগের দিন দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।
এই জবাবে ইরানের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির জন্য একটি ‘নতুন ব্যবস্থা’ চালুর আহ্বান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তাসনিম আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবে ইরানে সামরিক আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা এবং দেশটির চারপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে।
জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মেহরান কামরাভা সিএনএনকে বলেন, ‘ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করলে তাদের কাছে সবার আগে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—পূর্ণাঙ্গ না হলেও অন্তত আংশিক—প্রত্যাহার করা।’
এই অধ্যাপক বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালনের চেয়ে এটিই (অর্থনৈতিক বিষয়) ইরানিদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালির বিষয়টি তাদের কাছে দরকষাকষির হাতিয়ার মাত্র। তারা এটি নিয়ে খুব বেশি অনড় থাকার চেয়ে বরং আলোচনার টেবিলে ছেড়ে দিতে বেশি ইচ্ছুক।’
এদিকে ইরানের আরেক রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির পার্লামেন্ট একটি আইন অনুমোদন করতে যাচ্ছে, যা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে ইসরায়েলি জাহাজকে কখনোই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না এবং ‘শত্রু দেশগুলোর’ জাহাজকে চলাচলের অনুমতি পেতে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
আলোচনার বিষয়ে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে গত এপ্রিলে সিএনএন জানিয়েছিল, তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের ২ হাজার কোটি ডলারের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।