রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আগামী ৯ মে (২৫ বৈশাখ) কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর দিন শপথ নিতে পারে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার।
দলীয় সূত্র ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি এনডিটিভিকে নিশ্চিত করেছেন, রাজ্যে এক নতুন সূচনার বার্তা দিতেই পঁচিশে বৈশাখকে শপথ গ্রহণের দিন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এই তারিখটি নিশ্চিত করেছেন। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ৯ মে অনুষ্ঠিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। অন্যদিকে রাজ্যের শাসক দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ৮১টি আসনে।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই ধাপে এই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। ৪ মে হয় ভোটগণনা।
পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবীন্দ্রনাথের জন্মজয়ন্তীর দিন শপথ গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমি এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফিরে যাচ্ছি, ৪ মে নির্বাচনী ফলাফলের পর আমি এখানে বিজেপির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসব।’
৪ মে পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক জনরায়ের পর নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি রবীন্দ্রনাথের আদর্শের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, বিজেপির সংকল্প এমন এক বাংলা গড়া, ‘যেখানে চিত্ত ভয়শূন্য এবং উচ্চ যেখানে শির’; যা মূলত বিশ্বকবির কালজয়ী দর্শনেরই প্রতিফলন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের মুখ্য সচিব এস বি যোশী ও সচিব সুজিৎ কুমার মিশ্র মঙ্গলবার (৫ মে) দিল্লি থেকে কলকাতায় যাবেন। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা মনোজ কুমার আগারওয়ালের হাতে তারা নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তি তুলে দেবেন।
পরদিন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যপাল আর এন রবিকে এই বিষয়ে অবহিত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর পরেই সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যপাল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদত্যাগের আহ্বান জানাবেন।
এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার অনুরোধ করবেন রাজ্যপাল, যাতে রাজ্যের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।