পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের মাত্র দুই দিন পর দলটির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) চন্দ্রনাথ রাঠকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলন্ত গাড়িতে থাকা অবস্থায় চন্দ্রনাথ রাঠকে লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে তিনটি গুলি তার শরীরে লাগে। হামলাকারীরা তার গাড়িকে অনুসরণ করছিল এবং গাড়ির গতি কমে এলে তারা গুলি চালায়।
ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ির সামনের বাঁ পাশের কাচে গুলির চিহ্ন রয়েছে।
চন্দ্রনাথ রাঠ দীর্ঘদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কাজ করছিলেন। তিনি বিজেপি নেতার রাজনৈতিক সমন্বয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতেন এবং শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ মহলের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এরই মধ্যে চন্দ্রনাথ রাঠের মরদেহ মধ্যমগ্রামের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত ওই হাসপাতালে ছুটে যান।
এদিকে, হামলার সময় রাঠের সঙ্গে থাকা বুদ্ধদেব নামে আরেক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী জানান, ঘটনার সময় চন্দ্রনাথ রাঠ নিজের গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ওই সময় শুভেন্দু তার সঙ্গে ছিলেন না। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি হামলার পেছনে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন।
বিজেপি নেতা নিখিল প্রসূন বলেন, ‘এ ঘটনা তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, যা খতিয়ে দেখা উচিত।’
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক নির্বাচনে মধ্যমগ্রাম আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের রথীন ঘোষ ২ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। সেখানে বিজেপি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিল।
এদিকে, একই দিনে বিজেপি অভিযোগ করেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা বিজেপি সমর্থক সেজে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করার পর শুভেন্দু অধিকারী ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রত্যাশীদের অন্যতম বলেও আলোচনা রয়েছে।