ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম সরকারের কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে সশরীরে সাক্ষাৎ করলেন খামেনি।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সম্প্রতি খামেনির সঙ্গে এই বৈঠকের কথা উল্লেখ করে দেশটির ‘নেতৃত্বের কাঠামোর মধ্যে ঐক্য, আস্থা ও সংহতি জোরদার করার’ প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তবে বৈঠকটি ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যুর পর ছেলে মোজতবা খামেনি স্থলাভিষিক্ত হলেও এখন পর্যন্ত তাকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি। এতে তার স্বাস্থ্য এবং অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়।
নতুন সর্বোচ্চ নেতার নামে আসা এ পর্যন্ত সব বিবৃতিই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপকেরা পাঠ করেছেন।
সিএনএন বলছে, এই বৈঠকের সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আশাবাদের মধ্যে এই খবরটি সামনে এলো।
ফারস নিউজকে পেজেশকিয়ান বলেন, খামেনি ‘সরলতা, নম্রতা, আন্তরিকতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের’ সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন, যা পরিবেশকে ‘উন্মুক্ত এবং গভীর আস্থা ও ঘনিষ্ঠতায়’ ভরিয়ে তোলে।
ইরানি প্রেসিডেন্টকে উদ্ধৃত করে ফারস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা যখন এমন নৈতিকতা, বিনয় ও জনমুখী মনোভাব নিয়ে মানুষ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, তখন স্বাভাবিকভাবে এই আচরণ দেশের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির জন্যও আদর্শ হয়ে ওঠে।’